Wednesday, September 23, 2026
29 C
Kolkata

পশ্চিম মেদিনীপুরে প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের নাম ব্যবহার করে প্রশ্নপত্র ছাপিয়ে বিক্রির অভিযোগ RSS এর বিরুদ্ধে!

পশ্চিম মেদিনীপুরের একাধিক প্রাথমিক স্কুলে দ্বিতীয় পর্যায়ক্রমিক মূল্যায়নের জন্য ব্যবহৃত একটি প্রশ্নপত্রকে ঘিরে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ওই প্রশ্নপত্রের উপরে বড় অক্ষরে ‘পশ্চিমবঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ’-এর নাম ছাপা থাকলেও পরে জানা যায়, সেটি পর্ষদের অনুমোদিত নয়। বিষয়টি সামনে আসতেই জেলার শিক্ষা মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্ষদ।

জানা গিয়েছে, জেলার শতাধিক প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দ্বিতীয় শ্রেণির পড়ুয়াদের এই প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। কিন্তু অভিযোগ, শিক্ষাদপ্তর বা প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ এমন কোনও প্রশ্নপত্র স্কুলগুলিতে পাঠায়নি। তদন্তে প্রাথমিকভাবে উঠে এসেছে, একটি শিক্ষক সংগঠন নিজেদের উদ্যোগে প্রশ্নপত্রটি ছাপিয়ে বিভিন্ন স্কুলে সরবরাহ করেছে। অভিযোগ, প্রশ্নপত্রে পর্ষদের নাম ব্যবহার করে সেটি বিক্রিও করা হয়েছে।

কিছু স্কুলের তরফে প্রশ্নপত্র নিতে আপত্তি জানানো হলেও পরে নানা কারণে তা গ্রহণ করতে বাধ্য হতে হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। এই অভিযোগ সামনে আসার পর জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্ষদ সমস্ত বিষয় খতিয়ে দেখতে শুরু করেছে।

গত ৪ আগস্ট জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্ষদের সচিব একটি নির্দেশিকা জারি করেন। সেখানে বলা হয়, জেলার কয়েকটি চক্রের অধীনে বহু স্কুলে এমন প্রশ্নপত্র ব্যবহার হয়েছে, যার উপরে প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের নাম মুদ্রিত রয়েছে। সংশ্লিষ্ট স্কুলগুলিকে জানাতে বলা হয়েছে, তারা কোথা থেকে এই প্রশ্নপত্র সংগ্রহ করেছে এবং কীভাবে তা তাদের হাতে পৌঁছেছে। পুরো বিষয়টি লিখিতভাবে পর্ষদকে জানাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

শিক্ষা দপ্তরের নিয়ম অনুযায়ী, প্রাথমিক স্তরের পর্যায়ক্রমিক মূল্যায়নের জন্য সরকারিভাবে কোনও প্রশ্নপত্র সরবরাহ করা হয় না। সাধারণত প্রতিটি স্কুল নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী প্রশ্ন তৈরি করে বা বাইরে থেকে সংগ্রহ করে। ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা কমে যাওয়ায় অনেক স্কুলের পক্ষে আলাদা করে প্রশ্নপত্র ছাপানো ব্যয়সাপেক্ষ হয়ে পড়ে। সেই সুযোগে বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা কম খরচে প্রশ্নপত্র সরবরাহ করে থাকে। তবে সেসব প্রশ্নপত্রে সাধারণত কোনও সরকারি সংস্থার নাম ব্যবহার করা হয় না।

এদিকে, পর্ষদের নাম ব্যবহার করে প্রশ্নপত্র ছাপানো এবং তা বিভিন্ন স্কুলে বিক্রির অভিযোগকে অত্যন্ত গুরুতর বলে মনে করছেন শিক্ষাবিদদের একাংশ। তাঁদের মতে, সরকারি প্রতিষ্ঠানের নাম অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা হলে তা আইনগত প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে। পাশাপাশি, এতে স্কুলগুলিও বিভ্রান্ত হতে পারে।

ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষক সংগঠনের এক জেলা নেতা জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে তিনি ঊর্ধ্বতন নেতৃত্বের সঙ্গে কথা বলে পরে মন্তব্য করবেন। অন্যদিকে, এবিপিটিএ-র এক শিক্ষক নেতা অভিযোগ করেছেন, বহু স্কুল চাপের মুখে এই প্রশ্নপত্র কিনতে বাধ্য হয়েছে। যদিও এই অভিযোগের সত্যতা এখনও সরকারি তদন্তে প্রমাণিত হয়নি। তদন্ত শেষ হলে গোটা ঘটনার প্রকৃত ছবি স্পষ্ট হবে বলে শিক্ষা দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে।

Hot this week

LIC-এর ২,৬৮৪ কোটি টাকা নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ, অনিল আম্বানির বিরুদ্ধে দায়ের হল এফআইআর

ভারতীয় জীবন বিমা নিগম বা LIC-এর বিনিয়োগ ঘিরে আর্থিক...

রামমন্দিরে প্রণামি চুরির ১০৫ কাণ্ড! সিসিটিভি ফুটেজে ধরা পড়ল চাঞ্চল্যকর তথ্য

অযোধ্যার রামমন্দিরে ভক্তদের দেওয়া প্রণামির সামগ্রী চুরির ঘটনায় তদন্ত...

Topics

রামমন্দিরে প্রণামি চুরির ১০৫ কাণ্ড! সিসিটিভি ফুটেজে ধরা পড়ল চাঞ্চল্যকর তথ্য

অযোধ্যার রামমন্দিরে ভক্তদের দেওয়া প্রণামির সামগ্রী চুরির ঘটনায় তদন্ত...

Related Articles

Popular Categories