মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইসরাইলের মধ্যে উত্তেজনা নতুন করে তীব্র হয়ে উঠেছে। সাম্প্রতিক সংঘাতে ইরান একাধিক শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা যাচ্ছে। এই হামলায় ইসরাইলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার উপর চাপ তৈরি হয়েছে এবং কয়েকটি এলাকায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর মিলেছে।
ইসরাইলি সেনাবাহিনীর দাবি, ইরানের কিছু ক্ষেপণাস্ত্র এমন ধরনের ছিল যেগুলো আকাশে বিস্ফোরণের পর ছোট ছোট বিস্ফোরক ছড়িয়ে দেয়। প্রতিটি ক্ষেপণাস্ত্র থেকে অনেকগুলো সাব-মিউনিশন চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে এবং বিস্তীর্ণ এলাকায় আঘাত হানে। এতে করে নির্দিষ্ট লক্ষ্য ছাড়াও আশপাশের বিভিন্ন স্থাপনায় ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
গত মঙ্গলবার মধ্য ইসরাইলের কয়েকটি এলাকায় এমন হামলার প্রভাব দেখা যায়। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, বিস্ফোরণে অন্তত ১২ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। পাশাপাশি কিছু সামরিক স্থাপনা এবং অবকাঠামোর ক্ষতির কথাও জানানো হয়েছে। আক্রান্ত এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়ার কাজও শুরু হয়।
ইসরাইলের সেনা সূত্রে বলা হয়েছে, এই ধরনের অস্ত্র কয়েক কিলোমিটার এলাকা জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে এবং দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা কঠিন হয়ে যায়। যদিও পশ্চিমা দেশগুলোর অনেকেই এই ধরনের বোমা ব্যবহারের বিরোধিতা করে, তবুও যুদ্ধক্ষেত্রে এ ধরনের অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগ আগেও উঠেছে।
অন্যদিকে আকাশপথে সংঘাত নিয়েও নতুন তথ্য সামনে এসেছে। সামরিক বিশ্লেষকদের একাংশ দাবি করেছেন, ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সম্প্রতি একটি মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে। দক্ষিণ-পশ্চিম ইরানের আকাশে এই ঘটনা ঘটেছে বলে তারা জানিয়েছেন। তবে এই দাবি এখনও সরকারি ভাবে নিশ্চিত হয়নি।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড অবশ্য এই খবরকে গুজব বলে উড়িয়ে দিয়েছে। তাদের বক্তব্য, এমন কোনও ঘটনার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবুও আন্তর্জাতিক মহলে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান ও ইসরাইলের মধ্যে চলমান সংঘাত যদি দ্রুত থামানো না যায়, তাহলে পুরো মধ্যপ্রাচ্য আরও অস্থির হয়ে উঠতে পারে। এতে আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও অর্থনীতিতেও বড় প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে কূটনৈতিক মহল মনে করছে, উত্তেজনা কমাতে দ্রুত আলোচনার পথে এগোনো জরুরি না হলে সংঘাত আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।


