ইরানের মিনাব শহরে ঘটে যাওয়া এক ভয়াবহ ঘটনার স্মৃতি এখনো মানুষের মনে গভীর দাগ কেটে রয়েছে। সাম্প্রতিক এক বিমান হামলায় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় ধ্বংস হয়ে যায়। আন্তর্জাতিক সূত্র অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারির এই হামলায় শত শত মানুষের মৃত্যু হয়, যাদের অধিকাংশই ছিল ৭ থেকে ১২ বছর বয়সী শিশু। ধ্বংসস্তূপের মধ্যে থেকে উদ্ধার করা হয় কিছু স্কুলব্যাগ ও ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের ছবি, যা এখন এই মর্মান্তিক ঘটনার প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে।এই ঘটনায় পুরো দেশ শোকাহত। বিশেষ করে সেই শিশুদের ব্যবহার করা ব্যাগগুলো জানান দিচ্ছে যুদ্ধের নৃশংসতাকে। কিন্তু যুদ্ধের নিষ্ঠুরতায় তাদের জীবন হঠাৎ করেই থেমে যায়। ধ্বংস হয়ে যাওয়া স্কুলের ভাঙা ইটের ফাঁকে পাওয়া এসব জিনিসপত্র যেন নীরবে সেই দিনের বিভীষিকার কথা বলে।এই ঘটনার পর ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার, মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ, এক ভিন্নধর্মী উদ্যোগ নেন। তিনি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক আলোচনার জন্য ইসলামাবাদে যাওয়ার সময় বিমানে সেই নিহত শিশুদের স্মৃতিচিহ্ন সঙ্গে নিয়ে যান। বিমানের কিছু আসনে শিশুদের ছবি, তাদের ব্যবহৃত ব্যাগ এবং একটি করে ফুল রাখা হয়। এই দৃশ্য অনেকের হৃদয় ছুঁয়ে যায়। গালিবাফ এই শিশুদের সহযাত্রী হিসেবে উল্লেখ করেন। তার ভাষায়, এই যাত্রা শুধু রাজনৈতিক আলোচনা নয়, বরং নিরীহ মানুষের কণ্ঠ তুলে ধরার একটি প্রচেষ্টা। তিনি বোঝাতে চান, এই আলোচনা শুধু কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে অসংখ্য নিরপরাধ মানুষের রক্ত ও কষ্টের গল্প।এছাড়া জানা গেছে, যে ব্যাগগুলো বিমানে রাখা হয়েছিল, সেগুলো সরাসরি ঘটনাস্থল থেকেই সংগ্রহ করা হয়। অনেকগুলোর উপর তখনো ধুলোর আস্তরণ ছিল, যা সেই দিনের ভয়াবহতার সাক্ষ্য দেয়। বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনাটি এখন শুধু মানবিক বিপর্যয় নয়, বরং আন্তর্জাতিক কূটনীতির ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলছে। প্রতিটি ছবি ও প্রতিটি ব্যাগ যেন নতুন করে সবাইকে মনে করিয়ে দিচ্ছে, যুদ্ধের সবচেয়ে বড় মূল্য চোকায় নিরীহ মানুষ, বিশেষ করে শিশুরা।
ইসলামাবাদে যাওয়ার সময় বিমানে ‘মিনাব হামলায়’ নিহত শিশুদের স্মৃতিচিহ্ন বহন করল ইরান পার্লামেন্টের স্পিকার
Popular Categories


