গাজা, ২৯ জুন ২০২৫ — ইসরায়েলের বিমান হামলায় গাজায় শুক্রবার রাত থেকে শনিবার সকাল পর্যন্ত অন্তত ৭২ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। স্বাস্থ্যকর্মীদের বরাতে জানা যায়, হামলাগুলোতে শিশুসহ অসংখ্য ফিলিস্তিনি নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন, যার মধ্যে গাজা সিটির তুফফাহ এলাকায় এক হামলায় ৯ শিশুসহ ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে ।
খান ইউনিসের কাছে মুয়াসি এলাকায় একটি তাবুতে ঘুমন্ত অবস্থায় তিন শিশু ও তাদের বাবা মা সহ একটি পরিবার নিহত হন। শোকাহত দাদী সুআদ আবু তেইমা বলেন, “এসব শিশুর কী দোষ ছিল? তারা কী অপরাধ করেছিল?” নিহতদের রক্তাক্ত মুখে চুমু খেতে গিয়ে আত্মীয়রা ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কেঁদেছেন । গাজা সিটির প্যালেস্টাইন স্টেডিয়ামের কাছে আরেক হামলায় ১২ বাস্তুচ্যুত ব্যক্তি নিহত হন, যেখানে তারা আশ্রয় নিয়েছিলেন ।

এদিকে, গাজায় মানবিক সংকট ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। গাজা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলের অবরোধের কারণে অপুষ্টিতে এখন পর্যন্ত অন্তত ৬৬ শিশুর মৃত্যু হয়েছে । জাতিসংঘ শিশু তহবিল (ইউনিসেফ) সতর্ক করে জানিয়েছে, অপুষ্টিতে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা “উদ্বেগজনক হারে” বাড়ছে—মে মাসেই ৫,১১৯ শিশু অপুষ্টিজনিত রোগের চিকিৎসা করা হয়েছে। খাদ্য সহায়তার জন্য গাজা হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশনের (জিএইচএফ) কেন্দ্রগুলোতে যাওয়ার পথে ইসরায়েলি গুলিতে এ পর্যন্ত ৫০০-এরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন । জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস একে “ভয়াবহ পরিস্থিতি” বলে উল্লেখ করে জোর দিয়ে বলেছেন, “খাদ্যের সন্ধান কোনোভাবেই মৃত্যুদণ্ড হওয়া উচিত নয়” ।

কূটনৈতিক তৎপরতায় আশার আলো দেখা যাচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার জানিয়েছেন, আগামী সপ্তাহের মধ্যে গাজায় যুদ্ধবিরতি চুক্তি হতে পারে । ইসরায়েলের কৌশলগত বিষয়ক মন্ত্রী রন ডারমারও আগামী দিনে ওয়াশিংটনে আলোচনার জন্য যাচ্ছেন বলে জানা গেছে । গত অক্টোবরে হামাসের হামলার পর থেকে শুরু হওয়া এই যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ৫৬,০০০-এরও বেশি ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন, যাদের অর্ধেকেরও বেশি নারী ও শিশু ।
হামাসের শীর্ষ নেতা হাখাম মুহাম্মদ আল-ইসাকে গাজা সিটিতে হামলায় নিহতের দাবি করেছে ইসরায়েল । তবে, স্থানীয় বাসিন্দাদের কণ্ঠে এখন শুধুই প্রশ্ন: “গাজায় আর কী করার বাকি আছে?”।


