গাজার অধিকৃত পশ্চিম তীরের বিস্তীর্ণ এলাকা ‘রাষ্ট্রীয় জমি’ হিসেবে চিহ্নিত করার ইসরাইল সরকারের সিদ্ধান্ত ঘিরে পশ্চিম এশিয়ায় নতুন করে কূটনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। গত ১৫ ফেব্রুয়ারি ইসরাইল এই প্রস্তাবে অনুমোদন দেওয়ার পর উপসাগরীয় অঞ্চলের প্রভাবশালী তিন দেশ—সউদি আরব, কাতার এবং কুয়েত—তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায়। তাদের অভিযোগ, এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইনকে অগ্রাহ্য করছে এবং ফিলিস্তিন সমস্যার ন্যায়সঙ্গত সমাধানের পথে বড় বাধা তৈরি করবে।
রিয়াদ এক বিবৃতিতে জানায়, অধিকৃত ফিলিস্তিনি অঞ্চলে জোর করে নতুন প্রশাসনিক কাঠামো চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। তারা স্পষ্টভাবে বলে, বিতর্কিত ওই ভূখণ্ডের ওপর ইসরাইলের কোনও বৈধ অধিকার নেই। ১৯৬৭ সালের ৪ জুনের সীমারেখা অনুযায়ী পূর্ব জেরুসালেমকে রাজধানী করে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের দাবির প্রতি তারা আবারও সমর্থন জানায়। একই সঙ্গে সতর্ক করে, এ ধরনের সিদ্ধান্ত দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের সম্ভাবনাকে দুর্বল করে দেবে।
কুয়েতও কঠোর ভাষায় প্রতিবাদ জানিয়েছে। দেশটির মতে, এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক বিধি এবং রাষ্ট্রসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের একাধিক প্রস্তাবের পরিপন্থী। অধিকৃত এলাকায় অন্য কোনও দেশের সার্বভৌমত্ব চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা আইনসম্মত নয় বলেও তারা উল্লেখ করে। ফিলিস্তিনিদের ন্যায্য অধিকার রক্ষায় বিশ্ব সম্প্রদায়কে আরও সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানায় কুয়েত।
অন্যদিকে দোহা জানায়, এই সিদ্ধান্ত ফিলিস্তিনিদের নিজস্ব ভূমি থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়ার ধারাবাহিক নীতির অংশ। কাতারের আশঙ্কা, এর ফলে অঞ্চলে অস্থিরতা বাড়তে পারে এবং উত্তেজনা আরও ছড়িয়ে পড়তে পারে। তারা আন্তর্জাতিক মহলের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছে, যাতে পরিস্থিতি আরও জটিল না হয়।
এদিকে জানা গেছে, ইসরাইলের নতুন পরিকল্পনায় পশ্চিম তীরে বহু বছর পর আনুষ্ঠানিকভাবে ভূমি নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হবে। এর মাধ্যমে বড় একটি অংশকে সরকারি সম্পত্তি হিসেবে চিহ্নিত করার সুযোগ তৈরি হবে। বিশ্লেষকদের মতে, ভবিষ্যতে বসতি সম্প্রসারণের পথ সুগম করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ফলে পুরো অঞ্চলে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।


