ইসরাইলের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হয়ে উঠছে। সাম্প্রতিক ঘটনাবলির জেরে দেশের শাসক দল ও প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে ঘিরে চাপ বাড়ছে। বিশেষ করে ২০২৩ সালের অক্টোবরে ঘটে যাওয়া হামলার পর থেকেই সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ জমতে শুরু করেছে, যা এখন প্রকাশ্যে বিস্ফোরিত হচ্ছে।বৃহস্পতিবার রাজধানী জেরুজালেমে অবস্থিত সুপ্রিম কোর্ট অফ ইসরাইল এর সামনে বিক্ষোভের ছবি সেই অসন্তোষেরই ইঙ্গিত দেয়। শতাধিক মানুষ সেখানে জড়ো হয়ে আদালত চত্বরে ঢোকার চেষ্টা করেন। পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং নিরাপত্তা রক্ষীদের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের ধস্তাধস্তি শুরু হয়। পরে পুলিশ ভিড় ছত্রভঙ্গ করতে জলকামান ও টিয়ার গ্যাস ব্যবহার করে। কয়েকজনকে আটকও করা হয়েছে বলে জানা যায়।বিক্ষোভে অংশ নেওয়া মানুষের অভিযোগ, ২০২৩ সালের সেই হামলার সময় নিরাপত্তা ব্যবস্থার বড় ধরনের ব্যর্থতা ছিল। তাঁদের মতে, সরকার এবং প্রশাসন সময়মতো সঠিক পদক্ষেপ নিতে পারেনি, যার ফলে দেশকে বড় ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁরা অভিযোগ করেন, বর্তমানে বিচারব্যবস্থায় যে পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, তা আসলে সরকারের দায় এড়ানোর চেষ্টা।এই ঘটনার প্রভাব রাজনীতির অন্দরেও স্পষ্ট। বিরোধী দলগুলি একসুরে সরকারের সমালোচনা শুরু করেছে। বিরোধী নেতা ইয়ার লাপিড বলেন, ওই সময়ের ঘটনার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে জবাব দিতে হবে। তাঁর বক্তব্য, সত্য সামনে আনার বদলে বিচারব্যবস্থাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়। অন্যদিকে, সরকারের পক্ষ থেকে এই সব অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর মন্ত্রিসভা বারবার দাবি করেছে, পরিস্থিতি মোকাবিলায় তারা যথাসাধ্য চেষ্টা করেছে। তবুও দেশের বিভিন্ন প্রান্তে অসন্তোষ থামছে না।বিশেষজ্ঞদের মতে, গাজা পরিস্থিতি এবং দেশের অভ্যন্তরীণ নীতিগত পরিবর্তন—এই দুই দিক থেকেই চাপ বাড়ছে সরকারের ওপর। ফলে পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেবে, তা এখনই বলা কঠিন। তবে সাম্প্রতিক বিক্ষোভ স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, সাধারণ মানুষের ক্ষোভ এখন আর চেপে রাখা যাচ্ছে না এবং তা দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের ওপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।
Popular Categories


