গাজায় ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর হওয়ার এক মাস পার হয়েছে। কিন্তু এই অন্তর্বর্তীকালের মধ্যেই ইসরায়েল ২৮২ বার যুদ্ধবিরতির শর্ত ভেঙেছে বলে অভিযোগ তুলেছে গাজা সরকারের তথ্য দপ্তর। সংস্থার দাবি, এই হামলায় এখনও পর্যন্ত অন্তত ২৪২ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে এবং ৬২০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন বলে জানা যায়। তথ্য দপ্তরের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইসরায়েলি সেনারা গত এক মাসে ৮৮ বার সরাসরি গুলি চালিয়েছে সাধারণ ফিলিস্তিনি মানুষের উপর। এছাড়া ১২৪ বার বোমা বর্ষণ ও লক্ষ্যভিত্তিক হামলা চালিয়েছে। এমনকি ৫২টি সাধারণ মানুষের বাড়িঘর ধ্বংস করা হয়েছে এবং ২৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গাজা প্রশাসনের অভিযোগ, ইসরায়েল প্রকাশ্যে ও ধারাবাহিকভাবে যুদ্ধবিরতির শর্ত ভঙ্গ করছে, যা আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের শামিল। ইউরো-মেড মনিটর জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও ইসরায়েল এখনো ফিলিস্তিনি সাধারণ মানুষের উপর গণহত্যা চালাচ্ছে নানা উপায়ে। এই বিবৃতিতে বলা হয়েছে, কার্যকর আন্তর্জাতিক নজরদারির অভাবে ইসরায়েল গাজার অর্ধেকের বেশি অঞ্চল নিয়ন্ত্রণে রেখে সেগুলিকে যুদ্ধবিরতির আওতার বাইরে রেখেছে এবং সেখানে অব্যাহতভাবে হামলা চালাচ্ছে।গাজার তথ্য দপ্তর যুক্তরাষ্ট্রসহ যুদ্ধবিরতির মধ্যস্থতাকারী দেশগুলিকে ইসরায়েলের উপর চাপ সৃষ্টি করার আহ্বান জানিয়েছে। একইসঙ্গে খাদ্য, ওষুধ ও মানবিক সাহায্য পাঠানোর জন্য সব সীমান্ত খুলে দেওয়ার অনুরোধ করেছে। বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি জানিয়েছে, গাজায় শিশুদের অপুষ্টি ২০ শতাংশ বেড়েছে। যুদ্ধবিরতির শর্ত অনুযায়ী ১৫,৬০০ ট্রাক প্রবেশের কথা থাকলেও ৬ নভেম্বর পর্যন্ত মাত্র ৪,৪৫৩ ট্রাক ঢুকতে পেরেছে। ইসরায়েল এখনো রাফা সীমান্ত বন্ধ রেখেছে, ফলে সাধারণ মানুষের চলাচল ও চিকিৎসা-সহায়তা কার্যত আটকে পড়েছে।


