নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে আগামী ২১ মে ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রে পুনর্নির্বাচন হতে চলেছে। তার ঠিক আগেই আইনি সুরক্ষার দাবি নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলেন ওই কেন্দ্রের তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী জাহাঙ্গির খান। তাঁর আশঙ্কা, মনোবল ভেঙে দেওয়ার উদ্দেশ্যে তাঁকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কোনো পুরনো বা মিথ্যা মামলায় গ্রেফতার করা হতে পারে। এই কারণেই তিনি আদালতের কাছে রক্ষাকবচের আর্জি জানিয়েছেন।
সোমবার বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের এজলাসে বিষয়টি নিয়ে দ্রুত শুনানির আবেদন জানান জাহাঙ্গিরের আইনজীবী। আদালত সূত্রে জানা গেছে, দুপুরের দিকেই এই মামলার শুনানির সম্ভাবনা রয়েছে।
ফলতা এলাকায় রাজনৈতিক মহলে অত্যন্ত প্রভাবশালী নেতা হিসেবে পরিচিত জাহাঙ্গির খান ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের শুরু থেকেই নানা কারণে সংবাদ শিরোনামে রয়েছেন। ভোট প্রক্রিয়ার ওপর নজরদারির জন্য নির্বাচন কমিশন উত্তরপ্রদেশের খ্যাতনামা পুলিশ অফিসার অজয় পাল শর্মাকে এই এলাকায় পুলিশ পর্যবেক্ষক হিসেবে নিয়োগ করেছিল। গত ২৯ এপ্রিল মূল নির্বাচনের আগে পুলিশ পর্যবেক্ষকের কড়া হুঁশিয়ারির জবাবে জাহাঙ্গির খান পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছিলেন। তবে ভোট পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক সমীকরণ অনেকটাই বদলে যায় এবং বিজেপি শিবিরের শক্তিবৃদ্ধি ঘটে।
পরবর্তীকালে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তে ফলতার ভোট বাতিল করা হয় এবং আগামী ২১ মে সেখানে নতুন করে ভোটগ্রহণের দিন ধার্য করা হয়েছে। যার ফল প্রকাশ হবে ২৪ মে। রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের পর বেশ কিছু দিন জাহাঙ্গির খানকে এলাকায় সক্রিয় ভূমিকায় দেখা যায়নি। তবে গত ১৫ মে তিনি পুনরায় নিজের দলীয় কার্যালয়ে ফিরে আসেন এবং সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে জানান যে, তিনি পুনর্নির্বাচন নিয়ে একেবারেই চিন্তিত নন। ফলতার সাধারণ মানুষের রায়ের ওপর তাঁর পূর্ণ আস্থা রয়েছে এবং জনগণ যে সিদ্ধান্তই নেবে, তিনি তা সানন্দে মেনে নেবেন।
এরই মধ্যে গত শনিবার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর ফলতায় প্রথমবার এক রাজনৈতিক সভায় যোগ দেন শুভেন্দু অধিকারী। সেখান থেকে তিনি জাহাঙ্গির খানকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন এবং এলাকায় কোনো রকম অশান্তি বরদাস্ত করা হবে না বলে সাফ জানিয়ে দেন। শুভেন্দু অধিকারী আরও দাবি করেন, ২০২১ সালের ভোট পরবর্তী হিংসার ঘটনায় মানবাধিকার কমিশনের জমা দেওয়া কুখ্যাত অপরাধীদের তালিকায় জাহাঙ্গির খানের নাম রয়েছে এবং আইন অনুযায়ী তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শুভেন্দুর এই হুঁশিয়ারির পরই নিজের গ্রেফতারি এড়াতে আইনি রক্ষাকবচ চেয়ে হাইকোর্টের শরণাপন্ন হলেন তৃণমূল প্রার্থী। এখন আদালত এই বিষয়ে কী নির্দেশ দেয়, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।


