ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর গত সোমবার চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে পৌঁছে চীনের ভাইস প্রেসিডেন্ট হান ঝেংয়ের সাথে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেছেন। এই সাক্ষাতে ভারত ও চীনের মধ্যে সম্পর্কের ক্রমোন্নতির বিষয়টি সামনে এসেছে। জয়শঙ্কর জানিয়েছেন, তিনি আশাবাদী যে এই সফরে হওয়া আলোচনাগুলো এই ইতিবাচক ধারাকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে।
বৈঠকের সময় জয়শঙ্কর চীনের শাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন বা এসসিও-র সভাপতিত্বের জন্য ভারতের পূর্ণ সমর্থনের কথা জানান। সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ একটি পোস্টে তিনি লিখেছেন, “আজ বেইজিংয়ে পৌঁছেই ভাইস প্রেসিডেন্ট হান ঝেংয়ের সাথে দেখা করে ভালো লেগেছে। চীনের এসসিও সভাপতিত্বের প্রতি ভারতের সমর্থনের কথা জানিয়েছি। দুই দেশের সম্পর্কের উন্নতি চোখে পড়ছে এবং আমি আশা করি এই সফরের আলোচনা সেই গতিকে ধরে রাখবে।”
হান ঝেংয়ের সাথে আলোচনার শুরুতে জয়শঙ্কর উল্লেখ করেন, গত বছর অক্টোবরে রাশিয়ার কাজানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বৈঠকের পর থেকে দুই দেশের সম্পর্ক ধীরে ধীরে ভালোর দিকে এগোচ্ছে। তিনি বলেন, এই সফরে আলোচনার মাধ্যমে এই গতিপথ বজায় রাখা সম্ভব হবে বলে তিনি মনে করেন।
এছাড়াও জয়শঙ্কর জানান, ভারত ও চীনের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের ৭৫তম বার্ষিকী এবার পালিত হয়েছে। তিনি বলেন, “কৈলাশ মানসরোভর যাত্রা আবার শুরু হওয়ায় ভারতের মানুষের মধ্যে এটি ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়েছে। আমাদের সম্পর্কের এই স্বাভাবিকীকরণ দুই পক্ষের জন্যই উপকার বয়ে আনতে পারে।”
বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে জয়শঙ্কর বলেন, “আজ যখন আমরা মিলিত হচ্ছি, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি খুবই জটিল। প্রতিবেশী দেশ এবং বড় অর্থনীতির দেশ হিসেবে ভারত ও চীনের মধ্যে খোলামেলা মত বিনিময় খুবই জরুরি। আমি এই সফরে এমন আলোচনার জন্য উন্মুখ।”
জয়শঙ্কর সিঙ্গাপুরে তাঁর সফর শেষ করে চীনে এসেছেন। এটি গত পাঁচ বছরে তাঁর প্রথম চীন সফর। সোমবারেই তিনি চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ইয়ের সাথে দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় বসবেন বলে আশা করা হচ্ছে। এরপর ১৫ জুলাই তিনি তিয়ানজিনে এসসিও পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে অংশ নেবেন।
২০২০ সালে গালওয়ান উপত্যকায় ভয়াবহ সংঘর্ষের পর ভারত-চীন সম্পর্কে বড় ধরনের টানাপোড়েন দেখা দিয়েছিল। সেই ঘটনার পর এটিই জয়শঙ্করের প্রথম চীন সফর। এর আগে গত জুন মাসে প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালও এসসিও বৈঠকের জন্য চীনে গিয়েছিলেন।
আগামী মাসে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ইয়ের ভারতে আসার কথা রয়েছে। সেখানে তিনি ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালের সাথে বৈঠক করবেন। এটি সীমান্ত বিরোধ সমাধানের জন্য বিশেষ প্রতিনিধি প্রক্রিয়ার একটি অংশ।
২০২০ সালের গালওয়ান সংঘর্ষ ছিল গত ৪০ বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ সীমান্ত সংঘাত। এতে দুই পক্ষের সৈন্যদের প্রাণহানি হয়েছিল এবং সম্পর্কের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা দেখা দিয়েছিল। গত বছর অক্টোবরে কাজানে একটি সম্মেলনের ফাঁকে মোদী এবং শি জিনপিংয়ের সংক্ষিপ্ত আলোচনার পর সীমান্ত সংলাপসহ অন্যান্য বন্ধ চ্যানেলগুলো পুনরায় চালু করার সিদ্ধান্ত হয়। এরপর থেকে কিছু ইতিবাচক পদক্ষেপ দেখা গেছে, যার মধ্যে প্রায় পাঁচ বছর পর কৈলাশ মানসরোভর যাত্রা পুনরায় শুরু হওয়া অন্যতম।
এই সফরের মাধ্যমে ভারত ও চীনের মধ্যে সম্পর্ক আরও মজবুত হবে এবং দুই দেশের মধ্যে খোলামেলা আলোচনার পথ প্রশস্ত হবে বলে আশা করা যায়।


