জম্মু ও কাশ্মীর বিধানসভায় মঙ্গলবার তুমুল হট্টগোল ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। অধিবেশন শুরুর পর থেকেই শাসক দল ও বিরোধী সদস্যদের মধ্যে একাধিক ইস্যুতে তীব্র বাকবিতণ্ডা দেখা যায়। মূলত দুইটি বিষয়কে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে, রাজ্যের বাইরে কাশ্মীরি মুসলিমদের হয়রানির অভিযোগ এবং জম্মু অঞ্চলে আলাদা ন্যাশনাল ল’ ইউনিভার্সিটি (এনএলইউ) স্থাপনের দাবি।প্রশ্নোত্তর পর্ব শুরু হতেই ন্যাশনাল কনফারেন্সের বিধায়ক মোবারক গুল অভিযোগ করেন, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে কাশ্মীরি মুসলিমদের হেনস্তা করা হচ্ছে। তার দাবি, কিছু শক্তি কাশ্মীরের জমি চায়, কিন্তু কাশ্মীরের মানুষকে সম্মান দিতে চায় না। একই দলের আরেক সদস্য মীর সাইফুল্লাহ বলেন, অন্য রাজ্যে থাকা কাশ্মীরিরা হুমকি ফোন পাচ্ছেন। অনেককে ভাড়া বাড়িতে আটকে রাখা হচ্ছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন। বাইরে বেরোলেই মারধরের শিকার হতে হচ্ছে বলে জানান তিনি। পিডিপি নেতা ওয়াহিদ উর রহমান পারা বিষয়টি নিয়ে জরুরি আলোচনা দাবি করে স্থগিতাদেশ প্রস্তাব দেন। তিনি বলেন, কাশ্মীরিদের বিরুদ্ধে ঘৃণামূলক অপরাধ বাড়ছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।এদিকে বিজেপি বিধায়কেরা জম্মুতে পৃথক এনএলইউ গঠনের দাবিতে বিক্ষোভ দেখান। সুরজিৎ সিং স্লাথিয়ার নেতৃত্বে কয়েকজন সদস্য নিজেদের আসন থেকে উঠে প্ল্যাকার্ড দেখাতে থাকেন। তাদের বক্তব্য, জম্মু ও কাশ্মীর—দুই অঞ্চলের জন্য আলাদা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় থাকলে জম্মুর জন্য একটি আইন বিশ্ববিদ্যালয়ও হওয়া উচিত। এই দাবিতে রাস্তায় ছাত্রদের প্রতিবাদের কথাও উঠে আসে। অধিবেশন শেষে বিধানসভা চত্বরে ন্যাশনাল কনফারেন্সের বিধায়কেরা বিক্ষোভে সামিল হন। পুরো ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনীতিতে উত্তেজনা ও বিভাজন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
কাশ্মীরি মুসলিমদের নিরাপত্তা ইস্যু ও জম্মুতে পৃথক বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবিতে উত্তাল জম্মু-কাশ্মীর বিধানসভা
Popular Categories


