জম্মুর এক মুসলিম সাংবাদিকের বাড়ি ভেঙে দেওয়া নিয়ে তীব্র আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। ২৭ নভেম্বর সকালে জম্মু ডেভেলপমেন্ট অথরিটির কর্মীরা বুলডোজার নিয়ে হাজির হয় সাংবাদিক আরফাজ আহমেদ ডাইং-এর বাড়িতে। দাবি করা হচ্ছে, তার আগের দিন অর্থাৎ ২৬ নভেম্বরই হঠাৎ করে একটি উচ্ছেদ আদেশ জারি করা হয় কিন্তু তার পরিবারকে কোনওরকম আগাম নোটিস দেওয়া হয়নি।
আরফাজ জানান, এই বাড়ি প্রায় চল্লিশ বছর আগে তার বাবাই তৈরি করেছিলেন। সেই একই এলাকায় আরও বহু বাড়ি রয়েছে যেখানে সরকারি জমি নিয়ে নানা অভিযোগ আছে। কিন্তু প্রশাসন শুধু তার বাড়িটিকে লক্ষ্য করেছে কেন, সেই প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। তার দাবি, কিছুদিন আগে তিনি একজন এসডিপিও-র বিরুদ্ধে সীমান্ত পেরোনো বড় মাপের মাদক পাচার চক্রে জড়িত থাকার অভিযোগ প্রকাশ করেছিলেন। সেই রিপোর্ট প্রকাশের পর থেকেই তিনি নানা রকম হেনস্থার শিকার হচ্ছেন।
এই ঘটনার মধ্যে আশার আলো হয়ে সামনে এসেছেন তার হিন্দু প্রতিবেশী কুলদীপ শর্মা। বাড়ি ভাঙার খবর জানার পর তিনি এগিয়ে এসে আরফাজকে নিজের জমির পাঁচ মারলা জায়গা দিয়ে সাহায্য করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। প্রায় ১,২৫০ বর্গফুটের সেই জমি দিয়ে তিনি আরফাজকে নতুন করে বাড়ি বানানোর প্রস্তাব দিয়েছেন। কুলদীপ জানিয়েছেন, “এটা হিন্দু-মুসলিমের বিষয় নয়। এটা ন্যায়-অন্যায়ের বিষয়। যার সাথে অন্যায় করা হচ্ছে তার পাশে দাঁড়ানোই মানুষের কর্তব্য।” এই ঘটনা প্রশাসনের পক্ষপাতিত্ব, সাংবাদিকদের উপর বাড়তে থাকা চাপ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। অনেকেই দাবি করছেন, কোনও তদন্ত বা বিকল্প সমাধান খোঁজার চেষ্টা না করে বাড়ি ভেঙে দেওয়া অত্যন্ত অন্যায়।


