গতকাল, ২৫ জুলাই, জম্মুর সাতওয়ারি এলাকায় পুলিশের গুলিতে ২১ বছর বয়সী মোহাম্মদ পারভেজ নিহত হন। পুলিশের তরফ থেকে বলা হয়েছে, ফাল্লাইন মণ্ডল এলাকায় মাদক পাচারের অভিযোগে একটি সন্দেহজনক আস্তানায় অভিযান চলাকালীন এই ঘটনা ঘটে। তাদের দাবি, অভিযানের সময় পাল্টা গুলি চললে পারভেজ আহত হন এবং পরে গভর্নমেন্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান। কিন্তু এই বয়ান পরিবার ও স্থানীয়দের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়নি। তারা একযোগে এটিকে ‘মিথ্যা এনকাউন্টার’ বলে চিহ্নিত করেছে।
পারভেজের পরিবারের লোকজন বলছেন, তার বিরুদ্ধে কোনো অপরাধের নথি বা এফআইআর ছিল না। তারা জানিয়েছেন, পারভেজ ও তার ভগ্নিপতিকে একটি চেকপয়েন্টে থামানো হয় এবং কোনো কারণ ছাড়াই গুলি চালানো হয়। আদিবাসী অধিকার কর্মী তালিব হুসেন এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করে বলেছেন, “পুলিশ যদি তার উপর সন্দেহ করত, তাহলে গ্রেফতার করলেই হত। কিন্তু তারা সরাসরি গুলি চালিয়ে দিয়েছে।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, গত কয়েক মাস ধরে পুলিশ গুজ্জর সম্প্রদায়ের মানুষদের গবাদি পশু বা মাদক পাচারের অজুহাতে টার্গেট করছে। “আমরা এতদিন চুপ ছিলাম, কিন্তু এবার এর বিরুদ্ধে লড়তে হবে,” বলে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
ঘটনার পরপরই পারভেজের আত্মীয়, কর্মী ও স্থানীয়রা রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তারা এই মৃত্যুর স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি তুলেছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায়ও এই ঘটনা ঝড়ের গতিতে ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকে পারভেজকে নির্দোষ বলে দাবি করে পুলিশের ভূমিকার সমালোচনা করছেন। এসপি সিটি সাউথ অজয় শর্মা জানিয়েছেন, ‘অপারেশন ক্লিন-আপ’ নামে চলমান এই অভিযান মাদক পাচারকারী ও গ্যাংস্টারদের বিরুদ্ধে। কিন্তু পরিবার ও স্থানীয়রা পুলিশের এই তদন্তে ভরসা রাখতে পারছেন না, তারা চান স্বাধীন তদন্ত।
জম্মু ও কাশ্মীর একটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল, যার প্রশাসনিক দায়িত্ব সরাসরি বিজেপি নেতৃত্বাধীন কেন্দ্র সরকারের হাতে। এমন একটি ঘটনা এখানে ঘটে যাওয়া প্রশাসনের গুরুতর ব্যর্থতার ছবি তুলে ধরে। পুলিশের অভিযানে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ নতুন নয়, কিন্তু কেন্দ্র সরকার এই ধরনের ঘটনা রুখতে কোনো কঠোর পদক্ষেপ নেয়নি। এই মৃত্যু কেবল একটি ঘটনা নয়, এটি প্রশ্ন তোলে—কেন্দ্রের শাসনের অধীনে পুলিশের উপর নজরদারি এত শিথিল কেন? এমন অন্যায়ের বিরুদ্ধে কেন জবাবদিহি নিশ্চিত করা হচ্ছে না?


