আমেরিকার রাজনীতিতে আবারও তোলপাড় শুরু হয়েছে জেফ্রি এপস্টিনকে ঘিরে। হাউজ অফ রিপ্রেজেন্টেটিভসের তদন্তকারী কমিটির হাতে আসা হাজার হাজার গোপন নথির একটি অংশ সম্প্রতি প্রকাশ করেছে ডেমোক্র্যাটরা। এই নথির মধ্যেই ছিল এপস্টিনের পাঠানো বেশ কিছু ইমেল, যা সামনে আসতেই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
ধনকুবের জেফ্রি এপ্সটিন, আসলে অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের যৌন নির্যাতন ও শোষণ চালানোর অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। ২০১৯ সালে কারাগারে তার মৃত্যু হয়, তবে সেই মৃত্যু ঘিরেও নানা প্রশ্ন রয়ে গেছে। এপ্সটিনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন ঘিলেন ম্যাক্সওয়েল। তাকে ২০২১ সালে মানব পাচার ও নাবালিকাদের যৌন শোষণে সহায়তার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। এই দুই ব্যক্তিকে কেন্দ্র করে যে কেলেঙ্কারি সামনে এসেছে, তাতে মার্কিন রাজনৈতিক দলগুলিরও নাম জড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে ডেমোক্র্যাট দলের কিছু প্রভাবশালী নেতার সঙ্গে এপ্সটিনের সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। যদিও বেশিরভাগ নেতা দাবি করেছেন, তাঁরা সামাজিক বা পেশাগত কারণে তাঁর সঙ্গে দেখা করেছিলেন, অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে তাঁদের ভূমিকা নেই।সাম্প্রতিক সময়ে প্রকাশিত নতুন নথি ও ই-মেল আবার এই বিতর্ককে উসকে দিয়েছে। ম্যাক্সওয়েল বর্তমানে যৌন অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়ে ২০ বছরের সাজা কাটাচ্ছেন। অন্যদিকে ট্রাম্প শুরু থেকেই দাবি করে আসছেন, এপস্টিনের সঙ্গে তার সম্পর্ক থাকলেও ২০০০ সালের শুরু থেকেই তাঁদের যোগাযোগ কমে যায়। নতুন ইমেল ফাঁসের পরও ট্রাম্পের বক্তব্য, এ সব অভিযোগ ডেমোক্র্যাটদের রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র।
ডেমোক্র্যাটদের দাবি, ফাঁস হওয়া ইমেলগুলিতে এপস্টিন বারবার ইঙ্গিত করেছেন যে ট্রাম্প তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা যৌন কেলেঙ্কারি সম্পর্কে অনেক আগেই জানতেন। এক ইমেলে এপস্টিন লিখেছেন, “ট্রাম্প মেয়েদের ব্যাপারে জানেন।” অন্য এক ইমেলে তিনি তাঁর সঙ্গী গিলেন ম্যাক্সওয়েলকে জানান, ট্রাম্প নাকি ঘণ্টার পর ঘণ্টা তাঁর বাড়িতে সময় কাটাতেন, সেই সময় বাড়িতে উপস্থিত থাকত এপস্টিনের আশ্রয়ে থাকা মেয়েরাও, যাদের অনেকেই ছিল নাবালিকা। ২০১১ সালের আরেকটি ইমেলে এপস্টিন লেখেন, “যে কুকুর এখনও চিৎকার করেনি, সে হলো ট্রাম্প।” ডেমোক্র্যাটদের মতে, এই কথার মাধ্যমে এপস্টিন ট্রাম্পের নীরবতাকে কটাক্ষ করেছে। একই ইমেলে উল্লেখ ছিল, এক কিশোরী নাকি ট্রাম্পের সঙ্গে এপস্টিনের বাড়িতে কয়েক ঘণ্টা কাটিয়েছিল।২০১৯ সালের এক ইমেলে এপস্টিন লেখক মাইকেল উলফকে জানান, ট্রাম্প সব কিছু জানতেন, এমনকি গিলেন ম্যাক্সওয়েলকে থামতেও বলেছিলেন।


