কল্যাণীতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ডাকা প্রশাসনিক বৈঠকে মঙ্গলবার এক বিশেষ রাজনৈতিক বার্তা উঠে এল। কারণ, সেই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বারাসতের তৃণমূল সাংসদ ডা. কাকলি ঘোষ দস্তিদার। সাম্প্রতিক সময়ে দলের একাধিক পদ হারানো এবং জেলা সভাপতির দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়ার পর তাঁকে ঘিরে নানা রাজনৈতিক জল্পনা তৈরি হয়েছে। সেই আবহে তাঁর এই উপস্থিতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে।
মঙ্গলবার কল্যাণীতে নদিয়া, হুগলি ও উত্তর ২৪ পরগনা জেলার উন্নয়ন ও প্রশাসনিক বিষয় নিয়ে একটি পর্যালোচনা সভা করেন মুখ্যমন্ত্রী। বৈঠকে বিভিন্ন সরকারি দফতরের আধিকারিকদের পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকার জনপ্রতিনিধিদেরও আমন্ত্রণ জানানো হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন বিরোধী শিবিরের জনপ্রতিনিধিরাও। রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর থেকেই প্রশাসনিক বৈঠকে সব দলের সাংসদ ও বিধায়কদের ডাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেই নীতির ভিত্তিতেই তৃণমূলের প্রতিনিধিদেরও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে।
এই বৈঠকে যোগ দিয়ে কাকলি ঘোষ দস্তিদার স্পষ্ট করেন, এটি কোনও রাজনৈতিক সভা নয়। প্রশাসনিক কাজের স্বার্থেই তিনি সেখানে গিয়েছেন। তাঁর কথায়, এলাকার উন্নয়ন ও মানুষের সমস্যা নিয়ে আলোচনা করতেই এই বৈঠকে অংশ নেওয়া প্রয়োজন ছিল। শুধু কাকলি নন, দেগঙ্গা ও স্বরূপনগরের দুই তৃণমূল বিধায়কও বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
তবে কাকলির উপস্থিতি নিয়ে আগ্রহের মূল কারণ অন্য জায়গায়। দীর্ঘদিন ধরে তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের পরিচিত মুখ। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আন্দোলনের সময় থেকেও তিনি দলের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন। বারাসত লোকসভা কেন্দ্র থেকে একাধিকবার জয়ী হওয়ার পাশাপাশি দলের সাংগঠনিক দায়িত্বও সামলেছেন তিনি। মহিলা সংগঠনের দায়িত্ব এবং লোকসভায় গুরুত্বপূর্ণ পদও তাঁর হাতে ছিল।
কিন্তু গত বিধানসভা নির্বাচনের পর দলের অভ্যন্তরে কিছু পরিবর্তনের জেরে তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। লোকসভায় মুখ্য সচেতকের দায়িত্ব অন্য সাংসদের হাতে যাওয়ার পর সামাজিক মাধ্যমে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন কাকলি। এরপর সম্প্রতি জেলা সভাপতির পদ থেকেও সরে দাঁড়ান তিনি। তারপর থেকেই রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে, তিনি কি ভবিষ্যতে অন্য কোনও রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিতে চলেছেন?
এই পরিস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রীর ডাকা প্রশাসনিক বৈঠকে তাঁর উপস্থিতি রাজনৈতিকভাবে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। যদিও কাকলি নিজে এখনও পর্যন্ত দল ছাড়ার সম্ভাবনা নিয়ে কোনও মন্তব্য করেননি।


