নদিয়ার কালীগঞ্জে রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠল সাম্প্রতিক এক ঘটনার পর। শিশু তামান্না খাতুনের মৃত্যুর ঘটনায় তাঁর মা সাবিনা ইয়াসমিনকে বিধানসভা ভোটে প্রার্থী করার সিদ্ধান্ত নেয় সিপিএম। কিন্তু এই ঘোষণার পরেই দলের ভিতরে অসন্তোষ দেখা দেয়।
প্রার্থী তালিকা প্রকাশের কিছুক্ষণের মধ্যেই কালীগঞ্জের দলীয় কার্যালয়ে হঠাৎ অশান্তি শুরু হয়। কয়েক জন কর্মী ও সমর্থক অফিসে ঢুকে ভাঙচুর চালান। চেয়ার-টেবিল সহ বিভিন্ন জিনিসপত্র নষ্ট করা হয়। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছয় যে, সেখানে হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে। এই ঘটনার মাধ্যমে দলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে চলে আসে।
ঘটনার তিন দিনের মধ্যে কড়া পদক্ষেপ নেয় দল। জেলা নেতৃত্বের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এই ভাঙচুরের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে সাত জন সদস্যকে দল থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। মেঘলাল শেখ জানান, শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং তা সঙ্গে সঙ্গেই কার্যকর হয়েছে। বহিষ্কৃতদের নামও প্রকাশ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত বছর উপনির্বাচনের সময় বোমা বিস্ফোরণে মৃত্যু হয়েছিল ছোট্ট তামান্নার। সেই ঘটনার পর তাঁর পরিবার এলাকায় পরিচিত হয়ে ওঠে। এবার তাঁর মাকে প্রার্থী করায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিরোধীদের একাংশের দাবি, এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে একটি সংবেদনশীল ঘটনাকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
যদিও সাবিনা ইয়াসমিন নিজে জানিয়েছেন, সাধারণ মানুষের ইচ্ছাতেই তিনি প্রার্থী হয়েছেন। তাঁর কথায়, দলের অধিকাংশ কর্মী তাঁকে সমর্থন করছেন। তবে সাম্প্রতিক এই ঘটনার পর কালীগঞ্জের রাজনীতিতে উত্তেজনা আরও বেড়েছে বলেই মনে করছেন অনেকে।


