নদিয়ার কালীগঞ্জে ভোটপ্রচারের শেষ দিনে রাজনৈতিক উত্তেজনা উঠল চরমে । সোমবার সিপিএম ও তৃণমূলের পৃথক মিছিলকে ঘিরে এলাকায় অশান্তির পরিবেশ তৈরি হয়। একই সময় ও একই এলাকায় দুই দলের কর্মসূচি হওয়াকে কেন্দ্র করে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলে সিপিএম নেতৃত্ব। ঘটনাস্থলে পুলিশ আধিকারিকদের সঙ্গে তর্ক-বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম এবং দলের নেতা শতরূপ ঘোষ।
সোমবার কালীগঞ্জে সিপিএম প্রার্থী সাবিনার সমর্থনে একটি মিছিল বের করা হয়েছিল। মিছিলে উপস্থিত ছিলেন দলের একাধিক শীর্ষ নেতা। অভিযোগ, একই সময়ে কাছাকাছি এলাকায় তৃণমূলও কর্মসূচি শুরু করে। দুই পক্ষের মিছিল একে অপরের সামনে এসে পড়তেই এলাকায় বিশৃঙ্খলার পরিস্থিতি তৈরি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ এগিয়ে এলেও উত্তেজনা আরও বাড়তে থাকে।
ঘটনাস্থলে থাকা এক পুলিশ আধিকারিকের সঙ্গে সরাসরি কথা কাটাকাটিতে জড়িয়ে পড়েন সেলিম ও শতরূপ। সিপিএম নেতাদের দাবি, প্রশাসনের দায়িত্ব ছিল আগে থেকেই বিষয়টি সমন্বয় করা, যাতে দুই দলের কর্মসূচি একসঙ্গে না পড়ে। সেলিম ক্ষোভ প্রকাশ করে অভিযোগ করেন, পুলিশ নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করেনি। তাঁর দাবি, তাদের সভা ও মিছিল বাধাগ্রস্ত হয়েছে পুলিশের গাফিলতির কারণে।
এরপর শতরূপ ঘোষও প্রশাসনিক নিয়ম নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাঁর বক্তব্য, কোনও রাজনৈতিক কর্মসূচির অনুমতি দেওয়ার আগে স্থানীয় থানার মতামত নেওয়া হয়। সেই প্রক্রিয়া মেনেই অনুমতি দেওয়া হয়ে থাকে। তাহলে একই জায়গায় ও একই সময়ে দুই দলের কর্মসূচির অনুমতি কীভাবে দেওয়া হল, তা নিয়ে তিনি পুলিশের কাছে জবাব চান।
পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যখন সভামঞ্চ থেকে পুলিশকে কড়া ভাষায় সতর্ক করতে শোনা যায় সেলিমকে। তিনি অভিযোগ করেন, অনুমতি ছাড়াই কিছু জায়গায় মাইক ব্যবহার করা হচ্ছে। এই নিয়ে পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। ঘটনাস্থলে উপস্থিত পুলিশকর্মীরা পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করলেও দুই পক্ষের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা দীর্ঘক্ষণ বজায় ছিল।
অন্যদিকে, সিপিএম প্রার্থী সাবিনা গোটা ঘটনার পিছনে পরিকল্পিত চক্রান্তের অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর দাবি, বাইরে থেকে লোক এনে এলাকায় অশান্তির পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে। পাশাপাশি তিনি বলেন, অতীতে যাঁরা হুমকি দিয়েছিল, তারাই এখনও এলাকায় দাপট দেখাচ্ছে।
এই ঘটনার পর পুলিশের ভূমিকা নিয়ে নির্বাচন কমিশনের কাছে অভিযোগ জানাতে পারে সিপিএম। ভোটের আগে কালীগঞ্জের এই রাজনৈতিক সংঘাত ঘিরে নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়।


