কর্নাটক রাজ্য বিধানসভায়, ‘কর্নাটক ঘৃণাভাষণ ও ঘৃণাপরাধ (প্রতিরোধ) বিল’ পেশ করেছে রাজ্য সরকার। এই বিলে ঘৃণামূলক বক্তব্য দেওয়া বা ঘৃণাজনিত অপরাধ করলে সর্বোচ্চ ১০ বছর পর্যন্ত জেল এবং ১ লক্ষ টাকা পর্যন্ত জরিমানার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। এই বিল পেশ হতেই তোলপাড় রাজ্য-রাজনীতি। বিরোধী দল বিজেপি এই বিলের তীব্র বিরোধিতা করেছে। বিজেপির অভিযোগ, কংগ্রেস সরকার এই আইন ব্যবহার করে বিরোধী কণ্ঠস্বর দমন করতে চাইছে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও ধারওয়াড়ের সাংসদ প্রহ্লাদ যোশী বলেন, এই বিল মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে ক্ষুণ্ণ করবে। তাঁর দাবি, সরকার সমালোচনা সহ্য করতে না পেরে এই ধরনের আইন আনছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, এই আইন সত্যিই কি ঘৃণাভাষণ রোখার জন্য, নাকি ভিন্নমত দমনের জন্য?
বিল অনুযায়ী, ধর্ম, জাত, লিঙ্গ, যৌন অভিমুখ, ভাষা, জন্মস্থান, প্রতিবন্ধকতা, জনজাতি বা বাসস্থানের ভিত্তিতে কাউকে ঘৃণামূলক কথা বললে তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হবে। শুধু তাই নয়, এই আইনের আওতায় ডিজিটাল মাধ্যমও রাখা হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়া সংস্থা, সার্চ ইঞ্জিন, টেলিকম এবং ইন্টারনেট পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থাগুলিকেও জবাবদিহির মধ্যে আনা হয়েছে। এই বিলে ডেপুটি কমিশনারদের বিশেষ ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। তাঁরা চাইলে সাম্প্রদায়িকভাবে সংবেদনশীল এলাকায় উসকানিমূলক বক্তব্য, জনসভা, মিছিল, শোভাযাত্রা বা লাউডস্পিকারের ব্যবহার সাময়িকভাবে বন্ধ করতে পারবেন। প্রথমে ৩০ দিনের জন্য এই নিষেধাজ্ঞা জারি করা যাবে, প্রয়োজনে তা বাড়িয়ে ৬০ দিন করা সম্ভব। বিলের পক্ষে বক্তব্য রাখতে গিয়ে উপমুখ্যমন্ত্রী ডি. কে. শিবকুমার বলেন, এই আইন সংবিধানের মূল্যবোধ রক্ষা এবং বিভাজনের রাজনীতি বন্ধ করার জন্যই আনা হয়েছে। তিনি বলেন, যারা ঘৃণাভাষণ দেয় না, তাদের এই আইন নিয়ে ভয়ের কোনও কারণ নেই।


