দক্ষিণ কাশ্মীরের কোয়াজিগুন্ডের বিলাল আহমদ ওয়ানি নামক এক ব্যক্তি ছেলের সঙ্গে দেখা করার অনুমতি না পেয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে জানা গেছে। পরিবারের দাবি, ছেলের খোঁজ নিতে গিয়ে পুলিশ তাকে ছেলের সঙ্গে দেখা করতে দেয়নি এবং সেই অসহায় মুহূর্তেই নিজেকে আগুন লাগিয়ে ফেলেন বিলাল।
পেশায় ফল বিক্রেতা বিলাল প্রায় ৯০ শতাংশ দগ্ধ হন। প্রথমে তাকে অনন্তনাগের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে শ্রীনগরের এসএমএইচএস হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয় এবং সেখানেই তার মৃত্যু হয়। পরিবার ও পরিচিতদের মতে, ছেলে-সংক্রান্ত চাপ, ভয় আর অসহায়তা মিলেই তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন।
জানা গেছে, বিলালের ছেলে জাসির বিলাল ও ভাই নাভিল ওয়ানিকে সম্প্রতি আটক করেছে নিরাপত্তা সংস্থা। এলাকায় বসবাস করেন ডা. আদিল রাথারের পরিবারও। উত্তরপ্রদেশের সাহারানপুর থেকে এক কথিত সন্ত্রাসচক্র মামলায় তাকে আগে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। সেই তদন্তের সূত্র ধরেই জাসির ও নাভিলকে আটক করা হয়েছে বলে জানা যায়।
এরপর ঘটনায় বিলালের পরিবার চরম বিপর্যয়ের মধ্যে পড়ে। এই মৃত্যুকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে সোরগোলও তৈরি হয়। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি অভিযোগ করেন, বিলাল তার ছেলের সঙ্গে একবার দেখা করার অনুমতি চেয়েছিলেন, কিন্তু তা দিতে অস্বীকার করা হয়। তার কথায়, মানুষের ওপর এমন আচরণ বিচ্ছিন্নতা ও হতাশা আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। শ্রীনগরের প্রাক্তন মেয়র জুনায়েদ আজিম মত্তু বলেন, কোনো পরিবার তদন্তে জড়িত হলেই তাদের অপরাধী ভাবা সাংবিধানিক নীতির পরিপন্থী।
ইলতিজা মুফতি জানান, কাশ্মীরের মানুষকে বারবার সন্দেহের চোখে দেখা হচ্ছে, যেন সবাই অপরাধীর তালিকায়। আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণও বলেন, সন্ত্রাস দমন তদন্তের নামে অনেক সময় সাধারণ পরিবারের ওপর অতিরিক্ত চাপ ও হয়রানির অভিযোগ উঠছে, যা একেবারেই নৈতিক নয়। অন্যদিকে, একই তদন্তের অংশ হিসেবে কাশ্মীরের বিভিন্ন এলাকায় তল্লাশি চলছে।


