২০২৬ সালের বিধানসভা ভোটের আগে পূর্ব বর্ধমানের কাটোয়া সাংগঠনিক জেলায় বিজেপির অন্দরের গোষ্ঠী দ্বন্দ্ব তীব্র আকার নিচ্ছে। রাজ্যে ক্ষমতা দখলের লক্ষ্য সামনে রেখে সংগঠন শক্তিশালী করার কথা বললেও বাস্তবে পরিস্থিতি ঠিক উল্টো। নবনির্বাচিত জেলা সভানেত্রী স্মৃতিকণা বসুর বিরুদ্ধে একের পর এক বিজেপি নেতা বিদ্রোহ ঘোষণা করে জেলা কমিটি থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন। এতে সাধারণ কর্মীদের মধ্যেও হতাশা ছড়িয়ে পড়েছে।
কয়েক মাস আগে গোপাল চট্টোপাধ্যায়কে সরিয়ে স্মৃতিকণা বসুকে জেলা সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়। নেতৃত্ব বদলের পর সংগঠন আরও প্রভাবশালী হওয়ার আশায় ছিল দল। কিন্তু তার পর থেকেই পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। অভিযোগ, সভাপতি হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত আটজন নেতা জেলা কমিটি থেকে অব্যাহতি নিয়েছেন। এর মধ্যে পাঁচজন জামালপুর বিধানসভা এলাকার নেতা। বাকিরা মেমারি, কাটোয়া ও পূর্বস্থলী এলাকার।
জেলা কমিটি থেকে সরে আসা নেতাদের অভিযোগ,জেলা সভানেত্রী নিজের পছন্দমতো লোককে মণ্ডল সভাপতি করতে চাইছেন। অনেক অভিজ্ঞ নেতাকে মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগেই মণ্ডল সভাপতি পদ থেকে সরিয়ে জেলা কমিটিতে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে, যাতে তাদের ভূমিকা গুরুত্বহীন হয়ে পড়ে। জৌগ্রামের পঞ্চায়েত সদস্য ও বিজেপি নেতা জগবন্ধু ঘোষ অভিযোগ করেন, সভাপতি হওয়ার দশ দিনের মধ্যেই তাকে কোনও কারণ না জানিয়ে মণ্ডল সভাপতির পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। তার কথায়, “জেলা কমিটিতে পাঠানো মানে আসলে গুরুত্ব কমিয়ে দেওয়া।” মেমারি, জামালপুর ও কাটোয়ার আরও কয়েকজন নেতা তার পথ অনুসরণ করে পদ ছাড়ছেন।
কাটোয়ার সুদপুরের নেতা সুজিত হাজরাও একই অভিযোগ তুলেছেন। তার দাবি, জেলা কমিটিতে বসিয়েই রাখা হচ্ছে, কোনও কাজে ডাকাও হচ্ছে না। দলের পুরানো নেতৃত্বকে গুরুত্ব না দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন ৬৫ বছরের অভিজ্ঞ নেতা তাপস চট্টোপাধ্যায়ও। তার কথায়, “দলের বিরুদ্ধে কাজ করা লোকেদের আগলে রাখা হচ্ছে, আর পুরানো কর্মীদের সম্মান করা হচ্ছে না।”
অন্যদিকে, জেলা সভাপতি স্মৃতিকণা বসু অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “কেউ আমাকে লিখিত বা মৌখিকভাবে অভিযোগ জানাননি।”
বিজেপির এই অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে তৃণমূল শিবির ইতিমধ্যেই কটাক্ষ শুরু করেছে। জেলা তৃণমূল সভাপতি রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়ের মন্তব্য, “বিজেপি কোনও দল নয়, স্বার্থে আঘাত লাগলেই সেখানে অশান্তি তৈরি হয়।”


