বিজেপির নৃশংসতার দাবদাহ থেকে মুক্তি পাচ্ছে না হিন্দুরাও। সাম্প্রতিক কেরলে ঘটে যাওয়া ঘটনাকে কেন্দ্র করে এমনই সুর ছড়াচ্ছে বিজেপির। বিজেপির মুসলিম বিদ্বেষী মনোভাব ও উগ্র হিন্দুত্ববাদের আস্ফালন দুটোই সমান্তরাল সরলরেখায় চলছে, এমনটাই দাবি করছে বিরোধীরা। কেরলের পালাকাড় এলাকায় এক মর্মান্তিক ঘটনায় ছত্তিশগড়ের ৩১ বছর বয়সী পরিযায়ী শ্রমিক রামনারায়ণকে পিটিয়ে খুন করা হয়েছে। এই ঘটনাকে ঘিরে গোটা কেরল জুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। ঘটনাটি ঘটে বুধবার পালাকাড় জেলার ওয়ালাইয়ারের কাছে কিজাকেআট্রায়ালায়ম এলাকায়। অভিযোগ, বাংলাদেশী সন্দেহে রামনারায়ণকে মারধর করা হয় এবং সেই মারধরেই তাঁর মৃত্যু হয়।
বিগত এক বছর ধরে বাংলার সীমান্তবর্তী এলাকা সহ অন্যান্য বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে পরিযায়ী শ্রমিকরা বাংলায় কথা বললে প্রশাসনের ও বিজেপির কর্মী সমর্থকদের নিপীড়নের শিকার হতে দেখা গেছে। তবে এই ঘটনার পর প্রশ্ন উঠছে, ধর্মের আফিমে মত্ত হয়ে সনাতনী হিন্দু ধর্মের রক্ষাকর্তারাই কি শেষ করছে নিজেদেরকে? এই ঘটনার পর বিরোধীদের একাংশের দাবি, বাংলাদেশে উগ্র মৌলবাদীদের হাতে দিপু চন্দ্র দাসের নৃশংস হত্যা এবং ভারতের কেরল রাজ্যে উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের হাতে পরিযায়ী শ্রমিক রামনারায়ণ-এর হত্যা, একই মুদ্রার এ-পিঠ আর ও-পিঠকে উপস্থাপন করে। ভারতের সংখ্যালঘু, মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ হোক, বা বাংলাদেশের সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ হোক, ধর্মীয় বিদ্বেষের আগুনে পুড়ছে মানব সভ্যতা।


