কেরালায় এক সাংবাদিককে প্রকাশ্যে ‘সন্ত্রাসবাদী’ বলে আখ্যা দেওয়ার ঘটনাকে ঘিরে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। শ্রী নারায়ণ ধর্ম পরিপালনা (এসএনডিপি) যোগমের সাধারণ সম্পাদক ভেল্লাপল্লী নাটেশন এক সাংবাদিক সম্মেলনে মুসলিম সাংবাদিক রাহিস রশিদকে এই মন্তব্য করেন। এই বক্তব্যকে ঘিরে রাজ্যের রাজনৈতিক ও সাংবাদিক মহলে প্রবল ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
রাহিস রশিদ রিপোর্টার টিভির সাংবাদিক এবং কোট্টায়ামের এরাট্টুপেট্টার বাসিন্দা। আগের দিন ভেল্লাপল্লী নাটেশনের একটি মন্তব্য নিয়ে প্রশ্ন করার সময় নাটেশন সাংবাদিকের মাইক্রোফোন সরিয়ে দেন। সেই ঘটনার ব্যাখ্যা দিতে পরদিন যে সাংবাদিক সম্মেলন ডাকা হয়, সেখানেই তিনি রাহিসকে ‘সন্ত্রাসবাদী’ বলে উল্লেখ করেন। পাশাপাশি দাবি করেন, রাহিস মুসলিম স্টুডেন্টস ফেডারেশনের (এমএসএফ) নেতা এবং তাঁকে ইচ্ছাকৃতভাবে পাঠানো হয়েছে।
সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত অন্য সাংবাদিকরা প্রশ্ন তোলেন—এই অভিযোগের কোনও ভিত্তি আছে কি না, নাকি শুধুমাত্র নাম ও পরিচয়ের কারণেই এমন মন্তব্য করা হয়েছে। এর উত্তরে ভেল্লাপল্লী নাটেশন বলেন, তিনি কাউকে জবাবদিহি করতে বাধ্য নন এবং নিজের অভিজ্ঞতা থেকেই এমন মন্তব্য করেছেন। প্রশ্ন তোলা সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি হুমকির সুরে কথা বলেন এবং বারবার মাইক্রোফোনে আঘাত করেন।
এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন কেরালার বিরোধী দলনেতা ভি.ডি. সতীশন। তাঁর অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন পরোক্ষভাবে সাম্প্রদায়িক বিভাজন উসকে দিতে অন্যদের ব্যবহার করছেন। কংগ্রেস নেতা টি. সিদ্দিক বলেন, কেরালার মতো রাজ্যে একজন সাংবাদিককে শুধুমাত্র নামের কারণে ‘সন্ত্রাসবাদী’ বলা অত্যন্ত লজ্জাজনক। তাঁর প্রশ্ন, রাহিস কী অপরাধ করেছেন? তিনি তো শুধু নিজের পেশাগত দায়িত্ব পালন করে একটি বৈধ প্রশ্নই করেছিলেন।
মুসলিম স্টুডেন্টস ফেডারেশনের রাজ্য সভাপতি পি.কে. নাভাস প্রশ্ন তোলেন, ভেল্লাপল্লী নাটেশন কার ভাষায় কথা বলছেন। তিনি বলেন, নাম বা ধর্মের ভিত্তিতে কাউকে সন্ত্রাসবাদী আখ্যা দেওয়া যে সাম্প্রদায়িক মানসিকতার পরিচয়, তা স্পষ্ট। সরকারের নীরবতাকেও তিনি সমালোচনা করেন এবং মুখ্যমন্ত্রীর কাছে জানতে চান, কেন এখনও পর্যন্ত এই মন্তব্যের কোনও নিন্দা করা হয়নি।
নাভাস আরও অভিযোগ করেন, কেরালার সমাজকে ধর্মের ভিত্তিতে ভাগ করাই এই ধরনের বক্তব্যের মূল উদ্দেশ্য। তাঁর দাবি, এতে রাজ্যের রাজনৈতিক স্বার্থই চরিতার্থ করা হচ্ছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, মুখ্যমন্ত্রী কি এবার এই ঘটনায় মামলা দায়ের করতে প্রস্তুত?
উল্লেখযোগ্যভাবে, ভেল্লাপল্লী নাটেশনের বিরুদ্ধে অতীতেও একাধিকবার মুসলিম বিদ্বেষী মন্তব্য করার অভিযোগ উঠেছে। মালাপ্পুরাম জেলা নিয়ে তাঁর বক্তব্য এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায় সংক্রান্ত মন্তব্য আগেও বিতর্ক তৈরি করেছে। সেই প্রেক্ষাপটে এই নতুন মন্তব্য রাজ্যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিল।


