রেলের জমিতে নির্মম উচ্ছেদের পর এবার খোদ তিলোত্তমার ফুটপাত থেকে হকারদের রুজি-রুটিতে টান মারার চূড়ান্ত প্রস্তুতি শুরু করল রাজ্যের বিজেপি সরকার। শুধু ধর্মতলাই নয়, রাজকীয় হুকুমে এবার সমগ্র কলকাতা শহরকেই পুরোপুরি হকারমুক্ত করার এক চরম বিতর্কিত ও জনবিরোধী পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। যার সূচনা হতে চলেছে কলকাতার প্রানকেন্দ্র ধর্মতলা থেকে। খোদ বিজেপির শীর্ষ সূত্রে এই খবর চাউর হতেই তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে শহরের লক্ষ লক্ষ শ্রমজীবী মানুষের মনে।
মঙ্গলবার দিল্লিতে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য এই নিষ্ঠুর পরিকল্পনার কথা স্পষ্ট করে জানান যে, ধর্মতলার ফুটপাত হকারমুক্ত করার জন্য দলের পক্ষ থেকে রাজ্য সরকারের কাছে সুনির্দিষ্ট আবেদন জানানো হবে। শহরের সৌন্দর্যায়নের দোহাই দিয়ে তিনি দাবি করেন যে, রাস্তা আটকে যেখানে খুশি দিনের পর দিন বসে থাকা যাবে না, কারণ এতে নাকি সাধারণ মানুষের সমস্যা হচ্ছে। যদিও খোদ বিজেপির অন্দরের একটি মানবিক অংশ এই সিদ্ধান্তের চরম বিরোধিতা করছে। তাদের মতে, খেটে খাওয়া গরিব মানুষদের বিকল্প আয়ের ব্যবস্থা না করে এভাবে উচ্ছেদ করা চরম অমানবিক।
চাপের মুখে পড়ে শমীক ভট্টাচার্য পুনর্বাসনের জন্য রেল কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করার মতো ফাঁকা প্রতিশ্রুতি দিলেও, হকার উচ্ছেদের জেদ থেকে যে তাঁরা সরছেন না, তা দিনের আলোর মতোই পরিষ্কার। রাজনৈতিক মহলের মতে, উন্নয়নের চকচকে বিজ্ঞাপনের আড়ালে সাধারণ হকারদের পেটে লাথি মারার এই একগুঁয়ে প্রক্রিয়া চালিয়ে যাওয়ার স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়ে রাখল গেরুয়া শিবির। বিকল্প কর্মসংস্থান ও স্থায়ী পুনর্বাসন ছাড়া এই ধরণের হঠকারী সিদ্ধান্ত কলকাতার হাজার হাজার নিম্নবিত্ত পরিবারের ভবিষ্যৎকে এক চরম অন্ধকারের দিকে ঠেলে দেবে।


