পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে জল্পনা তৈরি করেছে তৃণমূলের একাংশের বিধায়কদের সাম্প্রতিক পদক্ষেপ। বুধবার বিধানসভা চত্বরে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে যোগ দেন দলের বিদ্রোহী শিবিরের একাধিক বিধায়ক। বৈঠক শেষে তাঁরা স্পিকারের কাছে একটি স্বাক্ষরিত চিঠি জমা দেন, যেখানে বিধানসভার বিরোধী দলনেতা হিসেবে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম প্রস্তাব করা হয়েছে।
বৈঠকে উপস্থিত নেতাদের দাবি, তাঁদের সঙ্গে থাকা বিধায়কদের সংখ্যাই বিধানসভায় প্রকৃত সংখ্যাগরিষ্ঠতার পরিচয় বহন করে। সেই কারণেই তাঁরা নতুন নেতৃত্ব কাঠামোর প্রস্তাব স্পিকারের সামনে তুলে ধরেছেন। বিদ্রোহী শিবিরের বক্তব্য, স্পিকারের অনুমোদন মিললে বর্তমান পরিস্থিতিতে তাঁরাই দলের প্রকৃত প্রতিনিধিত্ব করবেন।
শুধু বিরোধী দলনেতার পদ নয়, বিধানসভার অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বের ক্ষেত্রেও নিজেদের পছন্দের নাম প্রস্তাব করেছে এই গোষ্ঠী। মুখ্য সচেতকের পদে রঘুনাথগঞ্জের বিধায়ক আখরুজ্জামানের নাম সামনে আনা হয়েছে। পাশাপাশি তিনজন ডেপুটি সচেতকের নামও প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মাধ্যমে স্পষ্ট হয়েছে যে, দলের শীর্ষ নেতৃত্বের তরফে আগে যাঁদের নাম সুপারিশ করা হয়েছিল, সেই তালিকার সঙ্গে বিদ্রোহী শিবিরের মতের বিস্তর ফারাক রয়েছে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই পদক্ষেপ দলের অন্দরে দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা অসন্তোষেরই বহিঃপ্রকাশ। বিশেষ করে সংগঠন পরিচালনা, সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং নির্বাচনী কৌশল নিয়ে একাংশের মধ্যে ক্ষোভ ছিল বলেই মনে করা হচ্ছে। বিদ্রোহী নেতাদের বক্তব্যে সেই ইঙ্গিতও মিলেছে।


