দক্ষিণ কলকাতার সাউথ ক্যালকাটা ল’ কলেজের ক্যাম্পাসে এক ছাত্রীর মর্মান্তিক গণধর্ষনের ঘটনার জেরে পঠনপাঠন অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। গত ২৯ তারিখে কলেজ কর্তৃপক্ষের জারি করা নোটিসে জানানো হয়েছে, বিএ এলএলবি ও এলএলএম কোর্সের ক্লাস বন্ধ থাকবে এবং ছাত্রছাত্রীদের ক্যাম্পাসে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে কোনও তথ্য প্রমাণ যাতে নষ্ট না হয় তাই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। এই অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন এক প্রাক্তন ছাত্র এবং দুই বর্তমান পড়ুয়া। শোনা যাচ্ছে, মূল অভিযুক্ত শাসক দলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ এবং পেশায় আইনজীবী। এই ঘটনায় ক্ষোভে ফেটে পড়েছে সাধারণ মানুষ, জায়গায় জায়গায় শুরু হয়েছে প্রতিবাদ।
পুলিশের তদন্তে জানা গেছে, ঘটনাটি আগে থেকেই পরিকল্পিত ছিল। নির্যাতিতার বয়ানে উঠে এসেছে, সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে কলেজে আটজন উপস্থিত ছিলেন। এর মধ্যে চারজন চলে যান, আর বাকি তিনজন তাকে আটকে রেখে নির্যাতন করেন। সিসিটিভি ফুটেজে অভিযুক্তদের গতিবিধি তার বর্ণনার সঙ্গে মিলে গেছে। নির্যাতনের মাঝে অসুস্থ হয়ে পড়লে তিনি ইনহেলার চান। অভিযুক্তদের একজন, জেব, রাত ৮:২৯ মিনিটে কসবার এক ওষুধের দোকান থেকে ইনহেলার কেনেন, যার রসিদ ও সিসিটিভি ফুটেজ পুলিশের হাতে এসেছে। টাকা দেওয়া হয়েছে ইউপিআই-এর মাধ্যমে।
মেডিক্যাল পরীক্ষায় নির্যাতনের চিহ্ন স্পষ্ট। মূল অভিযুক্ত মনোজিতের শরীরে আঁচড়ের দাগ মিলেছে, যা প্রতিরোধের সময় হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। পুলিশ হকি স্টিক, পোশাকসহ বেশ কিছু জিনিস উদ্ধার করে ফরেন্সিকে পাঠিয়েছে। অভিযুক্তদের ডিএনএ পরীক্ষার জন্য চুল, নখ ও রক্তের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এই ঘটনা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তার প্রশ্ন তুলেছে। ন্যায়বিচারের দাবিতে ক্রমেই সোচ্চার হচ্ছে জনগণ।


