তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের একাধিক সম্পত্তিকে ঘিরে নোটিশ পাঠালো কলকাতা পুরসভা। পুরসভার বিল্ডিং বিভাগ তাঁর নামে থাকা মোট ১৭টি সম্পত্তিতে নোটিস পাঠিয়েছে বলে জানা গিয়েছে। সংশ্লিষ্ট সম্পত্তিগুলির নথি যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ বলে সূত্রের খবর।
পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, যে সম্পত্তিগুলিতে নোটিস পাঠানো হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে হরিশ মুখার্জি রোডের একটি বাড়ি, যেখানে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় থাকেন বলে জানা যায়। এছাড়াও কালীঘাট মোড়ের একটি বহুতল ভবনও তালিকায় রয়েছে। ওই ভবনের নিচতলায় একটি হার্ডওয়্যারের দোকান রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এর বাইরে শহরের আরও কয়েকটি সম্পত্তিকেও নোটিসের আওতায় আনা হয়েছে।
পুরসভার তরফে সংশ্লিষ্ট মালিকদের নির্দিষ্ট দিনে হাজির হয়ে সমস্ত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে বলা হয়েছে। বিশেষ করে বিল্ডিং প্ল্যান, নির্মাণের অনুমোদন, পুরনো নথি এবং প্রয়োজনীয় অনুমতির কপি সঙ্গে আনতে বলা হয়েছে। শুনানির সময় এই নথিগুলি খতিয়ে দেখবেন পুর আধিকারিকেরা।
পুরসভার এক আধিকারিক জানিয়েছেন, নিয়ম মেনে নির্মাণ হয়েছে কি না, সেটাই মূলত দেখা হবে। কোনও বাড়ি বা ভবনে অনুমোদিত নকশার বাইরে অতিরিক্ত নির্মাণ হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে। যদি কোথাও নিয়মভঙ্গের অভিযোগ সামনে আসে, তা হলে সেই নির্মাণ পরে বৈধ করা হয়েছিল কি না, তাও পরীক্ষা করা হবে।
পুরসভা সূত্রের দাবি, শহরের বিভিন্ন জায়গায় বেআইনি নির্মাণ সংক্রান্ত অভিযোগের ভিত্তিতেই নিয়মিত পর্যালোচনার কাজ চলছে। সেই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই এই নোটিস পাঠানো হয়েছে। যদিও এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
রাজনৈতিক মহলে এই ঘটনাকে ঘিরে ইতিমধ্যেই জল্পনা শুরু হয়েছে। বিরোধী দলগুলির একাংশ বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে। অন্যদিকে তৃণমূলের একটি অংশের দাবি, এটি পুরসভার স্বাভাবিক প্রশাসনিক প্রক্রিয়া ছাড়া আর কিছু নয়।
পুরসভা জানিয়েছে, সমস্ত নথি খতিয়ে দেখার পরেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। যদি কোথাও আইনবহির্ভূত নির্মাণের প্রমাণ মেলে, তা হলে পুর আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। তবে তদন্ত ও নথি যাচাই সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত কোনও চূড়ান্ত মন্তব্য করতে নারাজ পুর কর্তৃপক্ষ।


