তামিলনাড়ুর নতুন সরকার গঠনের পরেই বড় ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী বিজয়। রাজ্যের সরকারি কর্মচারী, শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ ২ শতাংশ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে তাঁর সরকার। এই ঘোষণার ফলে রাজ্যের লক্ষ লক্ষ কর্মী ও পেনশনভোগী সরাসরি উপকৃত হবেন বলে মনে করা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার সরকারিভাবে জানানো হয়েছে, এত দিন তামিলনাড়ুর সরকারি কর্মীরা ৫৮ শতাংশ হারে ডিএ পেতেন। নতুন সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে সেই হার বেড়ে হবে ৬০ শতাংশ। অর্থাৎ কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের সমান হারে এবার ডিএ পাবেন তামিলনাড়ুর কর্মীরাও। সরকার জানিয়েছে, এই বাড়তি ডিএ চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকেই কার্যকর ধরা হবে।
মুখ্যমন্ত্রী বিজয় বলেন, সরকারি কর্মচারী ও তাঁদের পরিবারের আর্থিক সুরক্ষার কথা মাথায় রেখেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মূল্যবৃদ্ধির বাজারে কর্মীদের উপর চাপ কমাতেই সরকার এই পদক্ষেপ করেছে বলে জানান তিনি।
রাজ্য সরকারের হিসেব অনুযায়ী, ডিএ বৃদ্ধির ফলে বছরে অতিরিক্ত প্রায় ১২৩০ কোটি টাকা খরচ হবে। সেই টাকা দ্রুত বরাদ্দ করা হবে বলেও আশ্বাস দিয়েছে প্রশাসন। পাশাপাশি আগামী দিনে আরও কিছু জনমুখী প্রকল্প চালু করার কথাও জানিয়েছে সরকার।
তামিলনাড়ুতে সদ্য ক্ষমতায় এসেছে বিজয়ের দল। বিধানসভা নির্বাচনে তাঁর দল একক ভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলেও জোটসঙ্গীদের সমর্থনে সরকার গঠন করেছে। ক্ষমতায় আসার পরেই সরকারি কর্মীদের জন্য এই ঘোষণা রাজনৈতিক দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
এই সিদ্ধান্তে খুশি রাজ্যের সরকারি কর্মচারীদের একাংশ। তাঁদের বক্তব্য, কেন্দ্রের সঙ্গে সমান হারে ডিএ পাওয়ার দাবি দীর্ঘ দিন ধরেই ছিল। অবশেষে সেই দাবি পূরণ হওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে কর্মচারীদের মধ্যে।
অন্যদিকে ডিএ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে পশ্চিমবঙ্গেও। বর্তমানে এ রাজ্যের সরকারি কর্মীরা কেন্দ্রের তুলনায় অনেক কম হারে ডিএ পান। পশ্চিমবঙ্গে এখন সরকারি কর্মচারীদের ডিএ ১৮ শতাংশ। যদিও রাজ্য বাজেটে আরও ৪ শতাংশ বাড়ানোর কথা ঘোষণা করা হয়েছিল। তবে সেই সিদ্ধান্ত এখনও পুরোপুরি কার্যকর হয়নি।
নতুন বৃদ্ধি কার্যকর হলে পশ্চিমবঙ্গে ডিএ দাঁড়াবে ২২ শতাংশে। কিন্তু তার পরেও কেন্দ্রীয় হারের সঙ্গে বড় ফারাক থেকেই যাবে। ফলে তামিলনাড়ুর সিদ্ধান্তের পর পশ্চিমবঙ্গের সরকারি কর্মচারীদের মধ্যেও নতুন করে ডিএ আন্দোলনের দাবি জোরালো হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।


