ওয়াশিংটনকে কেন্দ্র করে নতুন করে আন্তর্জাতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ইরান ও চীনের সম্পর্ক ঘিরে এবার গুরুতর অভিযোগ তুলেছে আমেরিকা। তাদের দাবি, চীন থেকে ইরানের উদ্দেশ্যে এমন একটি জাহাজ যাচ্ছিল, যেখানে ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী থাকতে পারে। এই অভিযোগ সামনে আসতেই কূটনৈতিক মহলে তীব্র আলোচনা শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা দাবি করছে, এটা সত্যি হয়ে থাকলে দুশ্চিন্তায় ঘুম উড়বে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের।
সম্প্রতি হরমুজ প্রণালী এলাকায় ইরানের একটি বড় জাহাজকে আটকে দেয় মার্কিন নৌবাহিনী। জানা গেছে, জাহাজটির নাম ‘তৌসকা’ এবং এটি ইরানের একটি রাষ্ট্রায়ত্ত শিপিং সংস্থার অধীনে পরিচালিত। আমেরিকা সম্ভাব্য বিপদের আশঙ্কা করে আগে থেকেই এই সংস্থার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল।
এই ঘটনায় মার্কিন রাজনীতিবিদ নিকি হ্যালি প্রশংসা করছেন, চীন গোপনে ইরানকে সাহায্য করছে। এই সহযোগিতার কারণে ইরানের সেনাবাহিনী আরও বেশি করে শক্তিশালী হয়ে উঠছে। যা নিঃসন্দেহে দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে হোয়াইট হাউসের কাছে। যদিও এই অভিযোগ এখনও সরাসরি প্রমাণিত হয়নি, তবুও তা আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক মহলকে নতুন করে ভাবাতে বাধ্য করছে।
ইরান যদিও এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে। তাদের অভিযোগ, আন্তর্জাতিক জলসীমায় জাহাজ আটক করা আমেরিকার অন্যায় ও আগ্রাসী পদক্ষেপ। তেহরানের দাবি, এই ধরনের আচরণ জলদস্যুতার মতো এবং তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ইরান আরও জানিয়েছে, এই পরিস্থিতিতে তারা আমেরিকার সঙ্গে শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষার বৈঠকে অংশ নেবে না, যতক্ষণ না এই অবরোধ তুলে নেওয়া হচ্ছে। তবে উত্তেজনার মাঝেও ইরান সরাসরি পালটা পদক্ষেপ নেয়নি। তাদের বক্তব্য, জাহাজে থাকা নাবিকদের নিরাপত্তার কথা ভেবে তারা পরিস্থিতি শান্ত রাখার চেষ্টা করছে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, এর আগেও আমেরিকা চীনের বিরুদ্ধে ইরানকে সাহায্য করার অভিযোগ তুলেছিল। যদিও সেই অভিযোগ বেইজিং স্পষ্টভাবে অস্বীকার করেছিল। সব মিলিয়ে, এই ঘটনাকে ঘিরে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের সমীকরণ আরও জটিল হয়ে উঠছে।


