বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়া ঘিরে সই সংক্রান্ত বিতর্ক ক্রমেই রাজনৈতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠছে। এই ঘটনায় অভিযোগ তোলার পর দলের দুই বিধায়ক সন্দীপন সাহা ও ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে ইতিমধ্যেই দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এবার বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে প্রতিক্রিয়া দিলেন তৃণমূল নেতা ও বিধায়ক কুণাল ঘোষ।
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কুণাল বলেন, কোনও রাজনৈতিক দলে মতপার্থক্য বা অসন্তোষ থাকতেই পারে। কিন্তু সেই বিষয় দলের অভ্যন্তরে আলোচনা না করে সরাসরি প্রশাসনের কাছে অভিযোগ জানানোকে তিনি সমর্থন করেন না। তাঁর মতে, যদি সত্যিই কোনও গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ থেকে থাকে, তবে প্রথমে দলের নেতৃত্বকে বিষয়টি জানানো উচিত ছিল। সমস্যার সমাধান না হলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া যেত।
তিনি প্রশ্ন তোলেন, যে দলের প্রতীকে ভোটে জয়ী হয়ে বিধায়ক হওয়া গেল, সেই দলের বিরুদ্ধেই এত দ্রুত অবস্থান বদল করার কারণ কী? কুণালের দাবি, সাধারণ মানুষ এই ধরনের আচরণ ভালোভাবে নেবেন না। তিনি বলেন, দলের মধ্যে সমালোচনার সুযোগ অবশ্যই রয়েছে, কিন্তু দলের স্বার্থের বিরুদ্ধে গিয়ে পদক্ষেপ করা গ্রহণযোগ্য নয়।
এদিন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম উল্লেখ করে কুণাল আরও কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন। তাঁর বক্তব্য, অতীতে দলের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব ও সুযোগ পাওয়ার পরও এমন অবস্থান নেওয়া অত্যন্ত হতাশাজনক। তিনি ইঙ্গিত করেন যে রাজনৈতিক সুবিধার জন্য বারবার অবস্থান পরিবর্তন করা ঠিক নয়।
একইসঙ্গে তিনি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকেও ধন্যবাদ জানান। কুণালের মতে, মুখ্যমন্ত্রীর সাম্প্রতিক মন্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে যে সংশ্লিষ্ট দুই বিধায়কের বিরুদ্ধে দলের নেওয়া সিদ্ধান্ত অযৌক্তিক ছিল না। তিনি দাবি করেন, তাঁদের আচরণ দলবিরোধী বলেই প্রমাণিত হয়েছে।
উল্লেখ্য, সোমবার এক সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী জানান, তৃণমূলের দুই বিধায়কের অভিযোগের ভিত্তিতেই সই সংক্রান্ত বিষয়টি সামনে আসে। অভিযোগ ছিল, বিরোধী দলনেতা নির্বাচনের জন্য জমা দেওয়া প্রস্তাবে থাকা কয়েকটি স্বাক্ষর নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে বিধানসভার প্রধান সচিব থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিরোধী শিবির ও শাসক দলের মধ্যে পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের পাশাপাশি বিষয়টি প্রশাসনিক তদন্তের দিকেও এগোচ্ছে। আগামী দিনে তদন্তে কী তথ্য সামনে আসে, সেদিকেই নজর রয়েছে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের।


