প্রত্যেক বারের মত এবারেও সাম্প্রদায়িক মেলবন্ধন এর নজিরবিহীন দৃষ্টান্ত গড়ে তুলল বাণিজ্য নগরী মুম্বাই শহর। লালবাগচা রাজা ও বাইকুল্লার হিন্দুস্তানি মসজিদের সামনে একতা ও সম্প্রীতির অনন্য দৃশ্যের সাক্ষী রইল গোটা ভারত।
প্রতিবছর লালবাগচা রাজা বিসর্জনের পথে, বাইকুল্লার হিন্দুস্তানি মসজিদ পরে। প্রত্যেকবার মসজিদের সামনে এসে বিসর্জন শোভাযাত্রা কয়েক মিনিটের জন্য পুরো মিছিল থেমে যায়। মুম্বাই শহরের ধর্মীয় সম্প্রীতির এক জীবন্ত উদাহরণ।বছরের পর বছর ধরে এই রীতি চলে আসছে। বিসর্জন শোভাযাত্রা যখন মসজিদের সামনে পৌঁছায়, তখন ভক্তরা “গণপতি বাপ্পা মোরিয়া” ধ্বনি তোলে আর মসজিদ কমিটির সদস্যরা মিছিলকে সৌহার্দ্যের সঙ্গে স্বাগত জানান। মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ ফুল, মিষ্টি দিয়ে গণেশ ভক্তদের অভ্যর্থনা করেন। এমন ধার্মিক সন্ধিক্ষণে হিন্দু মুসলিম নির্বিশেষে সকলের চোখে মুখে প্রস্ফুটিত হয় আনন্দ মিশ্রিত আবেগের ভাব রস।
১৯৩৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় লালবাগচা রাজা গণপতি মণ্ডল। জেলে এবং স্থানীয় ছোট ব্যবসায়ীরা ব্যবসায় আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে থাকে। পরবর্তীতে ধীরে ধীরে ব্যবসায় উন্নতি হতে থাকলে তারা ১২ই সেপ্টেম্বর ১৯৩৪ সালে লালবাগচা রাজা গণপতি মন্ডল, প্রথমবারের জন্য পূজিত হয়। তারপর থেকে প্রত্যেক বছর মুম্বাই নগরীতে জাঁকজমক করে লালবাগচা রাজা গণপতি মণ্ডলের পুজোর আয়োজন করা হয়।
শোনা যায় ৮০ দশক থেকেই লালবাগচা রাজা গণপতি মণ্ডল ভাসানের সময় মুম্বাইয়ে মুসলিম ভাই-বোনেরা র্যালিতে শামিল হতেন। শুধু তাই নয় বিসর্জনে মুসলমান সম্প্রদায়ের মানুষরা পথ চলতি মানুষদের পানীয় জল ও শরবত মিষ্টি বিলি করতেন। সময় অতিবাহিত হওয়ার সাথে সাথে লালবাগচা রাজা গণপতি মণ্ডল ভাসান গৌরবময় ঐতিহ্যে পরিণত হয়েছে। ধর্ম আলাদা হলেও, ভালোবাসা আর একে অপরের প্রতি সম্মান মানুষকে একত্রে বেঁধে রাখে। হিন্দুস্তানি মসজিদের সামনে লালবাগচা রাজা এসে দাঁড়ালে, শত সহস্র ঢাক একসঙ্গে ধ্বনিত হয়, ভক্তরা তাদের উন্মাদনার অন্তিম সীমায় গিয়ে পৌঁছায়। জাত, ধর্ম, বর্ণ ভুলে গিয়ে লক্ষাধিক মানুষ একসঙ্গে এবং এক ছন্দে গর্জে ওঠে “গণপতি বাপ্পা মোরিয়া”। গণপতি ভাসানের দিন মুম্বাইয়ের মানুষ প্রমাণ করে দেয়, ভক্তি, শ্রদ্ধা, ভালোবাসার উপর ভিত্তি করে গঠিত হয় প্রকৃত মানব ধর্ম।


