রাজ্যের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে বাম শিবিরে নতুন করে তৎপরতা দেখা যাচ্ছে। দীর্ঘদিন পর নিজেদের সংগঠনকে চাঙ্গা করতে এবার ভিন্ন কৌশল নিয়েছে সিপিএম। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মকে সামনে রেখে প্রচারে নেমেছে দলটি। তাঁদের স্লোগান,“হোয়েন নাথিং গোজ রাইট, গো লেফট”— ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে।
দলের তরুণ নেতাকর্মীরা মনে করছেন, এই লড়াই শুধুমাত্র রাজনৈতিক মতাদর্শের নয়, বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের অধিকার ও নিরাপত্তার প্রশ্ন। তাই প্রচারে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে সাধারণ মানুষের জীবনের বাস্তব সমস্যাগুলিকে। বেকারত্ব, দুর্নীতি, আর্থিক বৈষম্য— এসব বিষয় তুলে ধরে ভোটারদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা চলছে।
এবারের প্রার্থী তালিকাতেও সেই পরিবর্তনের ছাপ স্পষ্ট। নতুন মুখদের সুযোগ দিয়ে দল একদিকে যেমন নতুন বার্তা দিতে চাইছে, তেমনই ভবিষ্যতের নেতৃত্ব গড়ে তোলার দিকেও নজর দিচ্ছে। প্রচারের ধরনেও এসেছে বদল। আগে যেখানে বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রচারই ছিল মূল ভরসা, সেখানে এখন সোশ্যাল মিডিয়াকে বড় হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
এই ডিজিটাল প্রচারের অন্যতম মুখ হিসেবে উঠে এসেছেন দীপ্সিতা ধর ও আফরিন বেগম। সম্প্রতি তাঁদের একটি সংক্ষিপ্ত ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং দ্রুতই তা নজর কাড়ে। ওই ভিডিওতে তাঁরা দেশের বর্তমান উন্নয়ন মডেল নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁদের বক্তব্য, উন্নয়নের নামে যে চিত্র তুলে ধরা হচ্ছে, তা আদৌ সব মানুষের বাস্তবতার সঙ্গে মেলে কি না, তা ভেবে দেখা দরকার।
তাঁরা আরও দাবি করেন, সুযোগ ও সাফল্য এখন অনেক ক্ষেত্রেই যোগ্যতার ভিত্তিতে নয়, বরং প্রভাব ও সম্পর্কের ওপর নির্ভর করছে। বড় বড় প্রকল্প বণ্টন নিয়েও তাঁরা প্রশ্ন তোলেন এবং সাধারণ মানুষকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান। তাঁদের কথায়, ভয় দেখানো নয়, বরং মানুষকে ভাবতে শেখানোই এই প্রচারের লক্ষ্য।
দমদম উত্তর কেন্দ্র থেকে প্রার্থী হয়েছেন দীপ্সিতা ধর, যিনি এর আগেও একাধিক নির্বাচনে লড়েছেন। অন্যদিকে, যাদবপুরের গবেষক ছাত্রী আফরিন বেগম প্রথমবারের মতো বড় নির্বাচনে প্রার্থী হলেও ছাত্র রাজনীতিতে তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে। নতুন ভাবনা ও তরুণ নেতৃত্বকে সামনে রেখে এবারের ভোটে নিজেদের হারানো জমি ফিরে পেতে মরিয়া বামফ্রন্ট।


