মধ্যপ্রদেশে ২৬ টন মাংস বোঝাই একটি ট্রাক বাজেয়াপ্ত হওয়ার ঘটনায় রাজ্যের বিজেপি সরকার তীব্র অস্বস্তিতে পড়েছে। ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করার পর জানা গেছে, ওই বিপুল পরিমাণ মাংস আসলে গোমাংস। এই ঘটনাকে ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। গত ১৭ ডিসেম্বর জাহাঙ্গীধাবাদের কাছে একটি মাংস বোঝাই ট্রাক আটকায় হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের গোরক্ষক বাহিনী। তারা ট্রাকটি পুলিশের হাতে তুলে দেয়। প্রথমে সরকার বিষয়টি গুরুত্ব দিতে না চাইলেও পরে মাংস পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষার রিপোর্টে স্পষ্ট হয়ে যায়, ট্রাকে থাকা ২৬ টন মাংস গরুর মাংস। জানা গেছে, এই মাংস ভোপাল পুরসভা এলাকার একটি কসাইখানা থেকে মুম্বইয়ে পাঠানো হচ্ছিল।
এই ঘটনায় বড় প্রশ্ন উঠেছে, যেখানে ওই কসাইখানায় শুধুমাত্র মোষ জবাইয়ের অনুমতি ছিল, সেখানে এত বিপুল পরিমাণ গোমাংস এল কীভাবে। ভোপাল পুরসভা এবং রাজ্য সরকার, দুটিই বিজেপির দখলে। অথচ বিজেপি প্রকাশ্যে গোসংরক্ষণের কথা বলে এবং গোমাংস নিয়ে নানা জায়গায় কড়াকড়ি করে। এমন পরিস্থিতিতে বিজেপি শাসিত এলাকায় এত বড় কসাইখানায় গোহত্যা চলা নিয়ে বিরোধীরা সরব হয়েছে।
ঘটনার জেরে ৯ জানুয়ারি ভোপাল পুরসভা ওই কসাইখানা বন্ধ করে দেয়। কসাইখানা পরিচালনাকারী বেসরকারি সংস্থাকে কালো তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। সংস্থার ১২ জন কর্মীকে বরখাস্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ভেটেরিনারি অফিসারকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। এই ইস্যুতে কংগ্রেস বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানিয়েছে। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি জিতু পাটোয়ারি বলেন, বিজেপির আসল চেহারা সামনে এসেছে। তিনি অভিযোগ করেন, বিজেপি মুখে গোসংরক্ষণের কথা বললেও আড়ালে গোহত্যার অনুমতি দিচ্ছে। কংগ্রেস নেতা অমিত শর্মাও দাবি করেন, এই ঘটনায় পুলিশ প্রশাসন ও বিজেপি নেতাদের যোগসাজশ রয়েছে। শুধু কংগ্রেস নয়, বজরং দল, কর্মী সেনা এবং জয় মা ভবানী-সহ একাধিক হিন্দু সংগঠনও বিক্ষোভে নেমেছে। তারা কসাইখানা গুঁড়িয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছে। সংগঠনগুলির অভিযোগ, পুরসভার অনুমতি ছাড়া এত বড় কাণ্ড সম্ভব নয়। ভোপালের মেয়র মালভী রাই বলেন, ল্যাব রিপোর্ট পাওয়ার পরই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। রাজ্যের মন্ত্রী বিশ্বাস সারাং জানান, মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন, দোষীরা কেউ ছাড় পাবে না। তবে এতদিন ধরে কীভাবে এই কাজ চলছিল, তা নিয়ে তদন্ত চলছে। এই ঘটনায় বিজেপি সরকার প্রবল চাপের মুখে পড়েছে।


