মহারাষ্ট্র সরকার মঙ্গলবার ২০১৪ সালের একটি অধ্যাদেশের ভিত্তিতে মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য চালু হওয়া ৫ শতাংশ সংরক্ষণ সংক্রান্ত সমস্ত প্রশাসনিক প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিক ভাবে বাতিল করেছে। ওই অধ্যাদেশের মাধ্যমে সামাজিক ও শিক্ষাগতভাবে পিছিয়ে পড়া মুসলিমদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সরকারি চাকরিতে ৫ শতাংশ সংরক্ষণ দেওয়ার কথা ঘোষণা করা হয়েছিল।
সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, স্পেশাল ব্যাকওয়ার্ড ক্যাটাগরি–এ (এসবিসি-এ) শ্রেণির আওতায় মুসলিমদের যে জাতিগত শংসাপত্র ও ভ্যালিডিটি সার্টিফিকেট দেওয়া হত, সেই সংক্রান্ত সব আদেশ এখন থেকে আর কার্যকর থাকবে না। ২০১৪ সালের মহারাষ্ট্র অধ্যাদেশ নম্বর ১৪-র ভিত্তিতেই এই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল।
তবে সরকার জানিয়েছে, ওই অধ্যাদেশ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আইনে পরিণত হয়নি। ফলে ২৩ ডিসেম্বর ২০১৪ তারিখে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যায়। একই সঙ্গে বোম্বে হাইকোর্ট ২০১৪ সালের ১৪ নভেম্বর সরকারি চাকরিতে ৫ শতাংশ সংরক্ষণে অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দিয়েছিল বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
২০১৪ সালে তৎকালীন কংগ্রেস-এনসিপি জোট সরকার বিধানসভা নির্বাচনের আগে মারাঠা ও মুসলিম—উভয় সম্প্রদায়ের জন্য সংরক্ষণ ঘোষণা করেছিল। সে সময় মারাঠাদের জন্য ১৬ শতাংশ এবং মুসলিমদের জন্য ৫ শতাংশ সংরক্ষণের কথা বলা হয়। পরে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর অধ্যাদেশটি আইনে রূপান্তরিত না হওয়ায় তা বাতিল হয়ে যায়। ফলে সংরক্ষণ কার্যকর হয়নি।
এবারের সিদ্ধান্তকে অনেকেই প্রশাসনিক আনুষ্ঠানিকতা বলে মনে করছেন, কারণ সংরক্ষণটি আগেই কার্যকর ছিল না। তবে বিভিন্ন মহল থেকে হতাশা প্রকাশ করা হয়েছে। জামাতে-ইসলামী-হিন্দ(মহারাষ্ট্র) এই পদক্ষেপে গভীর উদ্বেগ জানিয়ে ৫ শতাংশ সংরক্ষণ পুনর্বহালের দাবি তুলেছে। সংগঠনের মতে, সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পিছিয়ে পড়া মানুষের স্বার্থ রক্ষা করা জরুরি।


