মহারাষ্ট্রে গো-রক্ষকদের হয়রানি ও হামলার প্রতিবাদে ধর্মঘটে নেমেছে কুরেশি সম্প্রদায়। এই ধর্মঘটের জেরে রাজ্যের গরু ও মোষের ব্যবসা প্রায় বন্ধ হওয়ার মুখে। মূলত মুসলিম সম্প্রদায়ের এই ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেছেন। ভারতে গরু বা মোষ জবাই আইনত নিষিদ্ধ না হলেও, তবুও গোরক্ষকরা তাদের ওপর হামলা চালাচ্ছে। ব্যবসায়ীদের দাবি, তারা আইন মেনে লাইসেন্স নিয়ে পশু পরিবহন ও কসাইখানা চালালেও গোরক্ষকরা রাস্তায় তাদের গাড়ি আটকাচ্ছে, মারধর করছে এবং ভয় দেখাচ্ছে। ফলে অনেক ব্যবসায়ী কাজ বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছেন। এতে কুরেশি সম্প্রদায়ের হাজার হাজার পরিবার চরম আর্থিক সংকটে পড়েছে। পুলিশ অনেক ক্ষেত্রেই নিরাপরাধ কুরেশি পরিবারদের সুরক্ষা দিতে উদাসীনতা দেখাচ্ছে। গোরক্ষকরা মূলত ২০১৫ সালে মহারাষ্ট্র পশু সুরক্ষা আইনকে হাতিয়ার করে এই ধরনের কাণ্ডকারখানা ঘটাচ্ছে বলে অভিযোগ। ওই আইন অনুযায়ী গরু, ষাঁড়, বলদ জবাই করা সম্পূর্ণ রূপে নিষিদ্ধ । তারপর থেকেই গোরক্ষকদের হামলা বেড়ে যায়।
ধর্মঘটের ফলে মোষের পরিবহন ও বিক্রি বন্ধ হয়ে গেছে। মাংসের ব্যবসায় জড়িত প্রায় ১০০০ কোটি টাকার ব্যবসা থমকে গেছে। প্রতিদিন অন্তত ৫,০০০ পশু জবাই হয় রাজ্যে, যার মাসিক আর্থিক লেনদেন প্রায় ৩০০ কোটি টাকা। কুরেশি সম্প্রদায় সরকারের কাছে নিরাপত্তা এবং আইন মেনে ব্যবসা করার অধিকার চেয়েছে। তাদের দাবি, গোরক্ষকদের হয়রানি বন্ধ করতে হবে এবং মাংস ব্যবসাকে রক্ষা করতে হবে। ধর্মঘটের প্রভাব শুধু মুসলিম সম্প্রদায় নয়, পুরো অর্থনীতিতেই পড়ছে।


