মালদার মালতিপুর বিধানসভা কেন্দ্রের নির্বাচনী লড়াইকে ঘিরে এবার নতুন করে চর্চায় উঠে এল তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী আব্দুর রহিম বক্সির আর্থিক তথ্য। ভোটের আগে জমা দেওয়া হলফনামায় তাঁর সম্পদের যে হিসাব সামনে এসেছে, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে নানা প্রশ্ন ও আলোচনা শুরু হয়েছে।
হলফনামার তথ্য বলছে, গত পাঁচ বছরে তাঁর মোট সম্পদের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০২১ সালের নির্বাচনের সময় তাঁর মোট সম্পদ ছিল প্রায় ৪ কোটি ৩৪ লক্ষ টাকা। এর মধ্যে বেশিরভাগটাই ছিল স্থাবর সম্পত্তি, আর অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ তুলনামূলক কম ছিল। কিন্তু ২০২৬ সালের হিসাবে দেখা যাচ্ছে, তাঁর মোট সম্পদ বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫ কোটি ৮২ লক্ষ টাকারও বেশি। অর্থাৎ পাঁচ বছরে প্রায় দেড় কোটি টাকার মতো বৃদ্ধি হয়েছে। বিশেষ করে অস্থাবর সম্পত্তির ক্ষেত্রে এই বৃদ্ধি অনেক বেশি চোখে পড়ার মতো। এছাড়াও তাঁর নামে প্রায় ১০ লক্ষ টাকার কিছু বেশি ঋণ রয়েছে বলেও জানা গেছে। তবে সম্পদের বৃদ্ধির হারই এখন রাজনৈতিক বিতর্কের মূল কেন্দ্র হয়ে উঠেছে।
আব্দুর রহিম বক্সির রাজনৈতিক জীবনও বেশ পরিবর্তনশীল। তিনি প্রথমে বামফ্রন্টের শরিক দল আরএসপি-র হাত ধরে রাজনীতিতে আসেন। ২০১১ সালে আসন পুনর্বিন্যাসের পর মালতিপুর থেকে প্রথমবার বিধায়ক নির্বাচিত হন। পরে ২০১৬ সালে তিনি পরাজিত হন। এরপর ২০১৯ সালে তিনি তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেন এবং ২০২১ সালে সেই দলের প্রার্থী হিসেবে আবার জয়ী হন। বর্তমানে তিনি জেলা তৃণমূল সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বেও রয়েছেন। এই কেন্দ্রে তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে রয়েছেন কংগ্রেস প্রার্থী মৌসম নূর, যিনি আগে তৃণমূলের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। ফলে এই আসনে লড়াই যে জমজমাট হতে চলেছে, তা বলাই যায়।
ব্যক্তিগত তথ্য অনুযায়ী, ৬২ বছর বয়সি বক্সি নিজেকে সমাজসেবী হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতা উচ্চমাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত। আয়ের উৎস হিসেবে বিধায়ক ভাতা ছাড়াও তাঁর পরিবারের অন্যান্য পেশার কথাও উল্লেখ রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে আইসিডিএস-এর কাজ, ব্যবসা এবং কৃষিকাজ। তাঁর বিরুদ্ধে দুটি ফৌজদারি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। একটি মামলায় ইতিমধ্যেই চার্জ গঠন হয়েছে, অন্যটি এখনও প্রাথমিক স্তরে রয়েছে। তবে এখনও পর্যন্ত কোনও ক্ষেত্রেই তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়নি। সম্পদের এই বৃদ্ধি এবং চলতি মামলাগুলি নিয়ে মালতিপুর কেন্দ্রের রাজনৈতিক পরিবেশ এখন বেশ উত্তপ্ত। বিশ্লেষকদের মতে, এই তথ্য ভোটারদের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারে এবং নির্বাচনের ফলাফলেও তার প্রতিফলন দেখা যেতে পারে।


