দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে সাধারণ মানুষের মতামত জানতে সাম্প্রতিক একটি সমীক্ষা চালিয়েছে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া। সেখানে উঠে এসেছে এক উদ্বেগজনক ছবি। এই সমীক্ষায় দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ তাঁদের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন। ফলাফল বলছে, অনেকেই মনে করছেন গত এক বছরে পরিস্থিতির খুব একটা উন্নতি হয়নি, বরং কিছু ক্ষেত্রে আরও কঠিন হয়েছে।
সমীক্ষায় শহর ও গ্রামের মানুষ—উভয় অংশের মতামত নেওয়া হয়। অধিকাংশ অংশগ্রহণকারী জানিয়েছেন, সংসারের খরচ ক্রমশ বাড়ছে। বিশেষ করে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বৃদ্ধি নিয়ে মানুষের মধ্যে অসন্তোষ স্পষ্ট। অনেকেই বলেছেন, মাসের শেষে হিসাব মেলানো এখন আগের চেয়ে বেশি কঠিন হয়ে উঠছে। শহরের ক্ষেত্রে প্রায় ৮৯ শতাংশ মানুষ জানিয়েছেন, বাজারদর উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। প্রয়োজনীয় সামগ্রীর ক্ষেত্রেও একই অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন বিপুল সংখ্যক মানুষ।
সরকারের পক্ষ থেকে মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে থাকার দাবি করা হলেও, সাধারণ মানুষের অভিজ্ঞতা ভিন্ন ছবি তুলে ধরছে। সমীক্ষায় অংশ নেওয়া খুব কম সংখ্যক মানুষই মনে করছেন, বাজারে দাম কমেছে। বরং অনেক পরিবার খরচ কমাতে বাধ্য হচ্ছে—কেউ অপ্রয়োজনীয় খরচ কমাচ্ছেন, কেউ আবার দৈনন্দিন চাহিদাতেই কাটছাঁট করছেন।
আয়ের ক্ষেত্রেও তেমন আশাব্যঞ্জক খবর পাওয়া যায়নি। প্রায় অর্ধেকের বেশি মানুষ জানিয়েছেন, তাঁদের আয় আগের মতোই রয়েছে। অন্যদিকে, উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষের দাবি, তাঁদের উপার্জন কমেছে। ফলে আয়-ব্যয়ের ভারসাম্য রক্ষা করা কঠিন হয়ে উঠছে। গ্রামের ছবিটা আরও চিন্তার। অনেক গ্রামীণ পরিবার জানাচ্ছে, কাজের সুযোগ কমেছে এবং আয়ের উৎস সংকুচিত হয়েছে। প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মানুষ সরাসরি বলেছেন, তাঁদের অবস্থা আগের তুলনায় খারাপ হয়েছে। আবার অনেকেই জানিয়েছেন, তেমন কোনো পরিবর্তন হয়নি। তবে দাম বৃদ্ধির চাপ গ্রামেও সমানভাবে অনুভূত হচ্ছে।
এই সমীক্ষার ফলাফল থেকে স্পষ্ট, অর্থনীতি, কর্মসংস্থান এবং বাজারদর—সব মিলিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে এক ধরনের অনিশ্চয়তা কাজ করছে। উল্লেখযোগ্য বিষয়, এর আগের সমীক্ষাতেও একই ধরনের অসন্তোষ প্রকাশ পেয়েছিল। এবারে সেই অসন্তোষ আরও বেড়েছে বলেই ইঙ্গিত মিলছে। দেশের বড় অংশের মানুষের কাছে বর্তমান আর্থিক পরিস্থিতি এখনও স্বস্তিদায়ক নয়। দৈনন্দিন জীবনের খরচ ও আয়ের ফারাক বাড়ায় তাঁদের উদ্বেগ ক্রমশ বাড়ছে বলে জানা যাচ্ছে।


