মালদহের হরিশ্চন্দ্রপুর থানার গোলা মোড় এলাকায় ধর্মান্তরকে কেন্দ্র করে রবিবার দুপুরে উত্তেজনা ছড়াল। মুসহর সম্প্রদায়ের কয়েকটি পরিবারকে টাকার প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ম পরিবর্তনে বাধ্য করার চেষ্টা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনাকে ঘিরেই এলাকায় বিক্ষোভ ও সংঘর্ষের পরিস্থিতি তৈরি হয়। সংঘর্ষে বজরং দলের পাঁচ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।স্থানীয় সূত্রের দাবি, গোলা মোড় এলাকায় প্রায় ১০০টি মুসহর পরিবারের বাস। তফসিলি জাতিভুক্ত এই সম্প্রদায়ের অনেকেই আর্থিকভাবে পিছিয়ে। অভিযোগ, তাঁদের আর্থিক দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে কয়েকজন ধর্মীয় প্রচারক টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ধর্ম পরিবর্তনের জন্য চাপ দিচ্ছেন। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, ইতিমধ্যেই প্রায় ৪০টি পরিবার ধর্ম পরিবর্তন করেছে। যদিও এই অভিযোগের সত্যতা এখনও প্রশাসনের তদন্তে প্রমাণিত হয়নি।রবিবার এলাকার একটি বাড়িতে প্রার্থনাসভার আয়োজন করা হয়েছিল। সেই খবর পেয়ে সেখানে পৌঁছন বজরং দল ও হিন্দু জাগরণ মঞ্চের সদস্যরা। তাঁদের অভিযোগ, বাকি পরিবারগুলিকেও ধর্ম পরিবর্তনের জন্য প্রভাবিত করার চেষ্টা চলছিল। এর প্রতিবাদে তাঁরা বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। প্রথমে দুই পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি হলেও কিছুক্ষণের মধ্যেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ, এরপর প্রার্থনাসভার আয়োজন করা বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়। দু’পক্ষের মধ্যে হাতাহাতিও হয়। ঘটনায় বজরং দলের পাঁচ সদস্য আহত হন। তাঁদের হরিশ্চন্দ্রপুর গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।বজরং দলের উত্তর মালদহ সাংগঠনিক জেলার আহ্বায়ক ঋতম দাসের অভিযোগ, বিদেশি অর্থ ব্যবহার করে আর্থিকভাবে দুর্বল মানুষদের ধর্ম পরিবর্তনের জন্য প্রভাবিত করা হচ্ছে। তাঁর দাবি, প্রশাসনের উচিত ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া। বিজেপি নেতা অর্জুন কেশরীও প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ম পরিবর্তনের বিরোধিতা করেছেন।তবে এই অভিযোগ মানতে নারাজ স্থানীয় বাসিন্দা দরাজ মুসহর। তিনি নিজে খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করেছেন। তাঁর বক্তব্য, তাঁরা কারও চাপে নয়, সম্পূর্ণ নিজের ইচ্ছাতেই এই ধর্ম গ্রহণ করেছেন। রবিবার বাড়িতে নিয়ম মেনে প্রার্থনা চলছিল। সেই সময় বাইরে থেকে আসা কিছু লোক সেখানে ঢুকে ভাঙচুর চালায় বলে তাঁর অভিযোগ।মালদহের পুলিশ সুপার অনুপম সিং জানিয়েছেন, ওই বাড়িতে প্রার্থনাসভা চলছিল। খবর পেয়েই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ধর্ম পরিবর্তনে জোর বা প্রলোভনের অভিযোগ এবং ভাঙচুরের ঘটনা—দু’দিকই তদন্ত করে দেখা হবে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।
মালদহে খ্রিস্টানদের প্রার্থনাসভায় হামলার অভিযোগ! বজরং দল ও হিন্দু জাগরণ মঞ্চের বিরুদ্ধে ভাঙচুর, মারধরের অভিযোগ
Popular Categories


