আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচনে বড়সড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ভোটগণনার প্রাথমিক প্রবণতায় ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান পার্টিকে পিছনে ফেলে এগিয়ে যাচ্ছে বিরোধী ডেমোক্র্যাটরা। শুধু কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সেনেট নয়, নিম্নকক্ষ হাউস অফ রিপ্রেজ়েন্টেটিভসেও সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পথে তারা। এই প্রবণতা শেষ পর্যন্ত বজায় থাকলে আগামী দু’বছর সরকার চালাতে গিয়ে একাধিক বাধার মুখে পড়তে পারেন ট্রাম্প।বিবিসি ও সিএনএনের প্রকাশিত প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, রিপাবলিকানদের দখলে থাকা একাধিক আসনে জয় পেয়েছে ডেমোক্র্যাট শিবির। সেনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রয়োজনীয় আসন সংখ্যাও পেরিয়ে গিয়েছে তারা। অন্যদিকে, হাউস অফ রিপ্রেজ়েন্টেটিভসেও এগিয়ে রয়েছে বিরোধীরা। দুপুর ১২টা নাগাদ পাওয়া সিএনএনের তথ্য অনুযায়ী, নিম্নকক্ষের ২২০টি আসনে এগিয়ে ছিলেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা। সেখানে রিপাবলিকানরা এগিয়ে ছিলেন ১২৬টি আসনে। তবে সব আসনের গণনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত চূড়ান্ত ফলাফল সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না।এই নির্বাচনের আগে দুই কক্ষেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা ছিল রিপাবলিকানদের। সেনেটে তাদের আসন ছিল ৫৩টি, ডেমোক্র্যাটদের ছিল ৪৭টি। অন্যদিকে, নিম্নকক্ষে রিপাবলিকানদের হাতে ছিল ২১৮টি এবং ডেমোক্র্যাটদের হাতে ২১৪টি আসন। এবারের ভোটে সেই সমীকরণ বদলে যাওয়ার ইঙ্গিত মিলছে।মধ্যবর্তী নির্বাচনে সাধারণত প্রেসিডেন্টের চার বছরের মেয়াদের মাঝপথে কংগ্রেসের সদস্যদের ভাগ্য নির্ধারিত হয়। এবার সেনেটের ১০০টি আসনের মধ্যে ৩৫টি এবং হাউস অফ রিপ্রেজ়েন্টেটিভসের ৪৩৫টি আসনেই ভোট হয়েছে। পাশাপাশি বেশ কয়েকটি প্রদেশে গভর্নর পদেও নির্বাচন হয়েছে।ভোট চলাকালীন ট্রাম্প অবশ্য নিজের অবস্থান নিয়ে যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী ছিলেন। সিবিএস নিউজ়কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, ডেমোক্র্যাটরা সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলেও তাঁর হাতে ভেটো প্রয়োগের ক্ষমতা রয়েছে। তাই বিরোধীরা চাইলেই তাঁর প্রশাসনের সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়া আটকাতে পারবে না। তবে ফলাফলের প্রবণতা স্পষ্ট হওয়ার পর ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে সহযোগিতার বার্তা দিয়েছেন ট্রাম্প।বিশেষজ্ঞদের মতে, দুই কক্ষেই ডেমোক্র্যাটরা সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলে ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষে নতুন আইন পাশ করানো কঠিন হবে। সরকারের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়ে তদন্তও শুরু করতে পারবে বিরোধীরা। প্রশাসনের আধিকারিকদের নথি ও সাক্ষ্য তলব করার ক্ষমতাও থাকবে তাদের হাতে। এমনকি প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট প্রক্রিয়া শুরু করার উদ্যোগও নিতে পারে ডেমোক্র্যাটরা। ফলে আগামী দু’বছর আমেরিকার রাজনীতিতে সংঘাত আরও বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
মধ্যবর্তী নির্বাচনে ট্রাম্পের বড় ধাক্কা, মার্কিন কংগ্রেসের দুই কক্ষেই এগিয়ে ডেমোক্র্যাটরা, চাপে রিপাবলিকান শিবির!
Popular Categories

