জেলার হাই মাদ্রাসা পরীক্ষার ফলাফলে এ বছর উচ্ছ্বাসের ছবি দেখা গেল। জেলার বিভিন্ন এলাকার মোট সাতজন পরীক্ষার্থী রাজ্যের মেধা তালিকায় জায়গা করে নিয়ে সবার নজর কেড়েছে। তাদের এই সাফল্যে পরিবার, শিক্ষক থেকে শুরু করে পুরো জেলা জুড়েই খুশির পরিবেশ তৈরি হয়েছে।রাজ্যের সম্ভাব্য প্রথম স্থান অধিকার করেছে সাহান আক্তার। তার মোট প্রাপ্ত নম্বর ৭৮১। খুব কাছাকাছি ব্যবধানে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে শাকিল হোসেন, যার নম্বর ৭৮০। যৌথভাবে চতুর্থ স্থানে রয়েছে রিফা আঞ্জুম এবং আফ্রিদা খাতুন, দু’জনেরই প্রাপ্ত নম্বর ৭৭৭। এছাড়া ৭৭৬ নম্বর পেয়ে পঞ্চম স্থানে মৌদাদ আলম, ৭৭৪ নম্বর নিয়ে সপ্তম স্থানে তাহসিনা তাবাসুম এবং ৭৬৮ নম্বর পেয়ে দশম স্থানে সাদিয়া আফরিন রয়েছে।শাকিল হোসেনের বাড়ি কালিয়াচকের কুশাবাড়ি এলাকায়। তার বাবা দিনমজুর এবং মা গৃহকর্মী। ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনায় মনোযোগী শাকিল অঙ্কে বিশেষ দক্ষ। বিজ্ঞান বিভাগে পড়াশোনা করে ভবিষ্যতে চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন দেখে সে। পড়াশোনার পাশাপাশি ক্রিকেট খেলতেও তার আগ্রহ রয়েছে। পরীক্ষায় সে প্রতিটি বিষয়ে প্রায় পূর্ণ নম্বর পেয়েছে, যা তার পরিশ্রমেরই ফল বলে মনে করছেন শিক্ষকরা।রিফা আঞ্জুম চাঁচলের সামসি ভাদো এলাকার বাসিন্দা। সে দীর্ঘদিন ধরে একটি মিশন স্কুলে পড়াশোনা করছে। তার বাবা গৃহশিক্ষক এবং মা গৃহবধূ। জীবন বিজ্ঞান তার সবচেয়ে প্রিয় বিষয়। ভবিষ্যতে শিক্ষক হওয়ার ইচ্ছা রয়েছে তার। পড়াশোনার বাইরে বই পড়তে ভালোবাসে রিফা, বিশেষ করে সাহিত্যধর্মী গল্প তাকে বেশি আকর্ষণ করে।আফ্রিদা খাতুনের বাড়ি সুজাপুর এলাকায়। সে বিজ্ঞান বিষয়ে আগ্রহী এবং ভবিষ্যতে চিকিৎসক হওয়ার লক্ষ্য নিয়েছে। পড়াশোনার ফাঁকে গান শোনা ও ছবি আঁকা তার শখ। মৌদাদ আলম, তাহসিনা তাবাসুম এবং সাদিয়া আফরিনও নিজেদের স্বপ্ন পূরণের পথে এগিয়ে যেতে চায়। কেউ বিজ্ঞান নিয়ে গবেষণা করতে চায়, কেউ আবার সমাজে অবদান রাখার লক্ষ্য নিয়েছে।এবারের ফলাফল শুধু শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং জেলার শিক্ষার মান উন্নতিরও একটি বড় প্রমাণ বলে মনে করছেন অভিভাবক ও শিক্ষাবিদরা। সকলের আশা, ভবিষ্যতে এই কৃতী ছাত্রছাত্রীরা আরও বড় সাফল্য এনে জেলার নাম উজ্জ্বল করবে।
Popular Categories


