প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কেন্দ্র করে কলকাতা হাইকোর্ট চত্বরে যে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, তা নিয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। বৃহস্পতিবারের এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে তিনি দাবি করেন যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্দেশ্যে করা কুমন্তব্য বা চোর-চোর স্লোগান দেওয়ার সঙ্গে বিজেপির কোনো সম্পর্ক নেই। শমীক ভট্টাচার্যের মতে কোনো প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বা মহিলাকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করা বিজেপির রাজনৈতিক সংস্কৃতির মধ্যে পড়ে না। তিনি স্পষ্ট জানান যে এই বিক্ষোভ আসলে তৃণমূল কংগ্রেসের দীর্ঘদিনের কৃতকর্মের ফল এবং সাধারণ মানুষের পুঞ্জীভূত ক্ষোভেরই বহিঃপ্রকাশ।
এই ঘটনার প্রেক্ষাপটে শমীক ভট্টাচার্য আরও দাবি করেন যে যারা বিক্ষোভ দেখাচ্ছে তারা কোনোভাবেই বহিরাগত নয় বরং এটি শাসকদলের ভেতরকার একটি দ্বন্দ্বের প্রতিফলন। তাঁর ব্যাখ্যা অনুযায়ী বর্তমানে তৃণমূলের অন্দরে যারা সুযোগ-সুবিধা পেয়েছে এবং যারা বঞ্চিত হয়েছে তাদের মধ্যে এক লড়াই শুরু হয়েছে যা এখন জনসমক্ষে চলে আসছে। বিজেপি এই ধরণের কুরুচিকর রাজনীতি সমর্থন করে না এবং তারা রাজ্যকে এই অস্বাস্থ্যকর রাজনৈতিক পরিবেশ থেকে মুক্ত করতে চায়।
অন্যপক্ষে হাইকোর্টে সওয়াল করতে গিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন যে ভোট-পরবর্তী হিংসার কারণে তাঁর দলের কর্মীরা চূড়ান্ত নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তিনি দাবি করেন যে রাজ্যে অন্তত ১৬০টি দলীয় কার্যালয় ভাঙা হয়েছে এবং নাবালিকাদের ধর্ষণের হুমকি দেওয়া হচ্ছে অথচ পুলিশ কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। এই অভিযোগের জবাবে শমীক ভট্টাচার্য পাল্টা বলেন যে বিজেপির কর্মীরাও এই হিংসার ফল ভোগ করছেন। তিনি মনে করেন পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক সংস্কৃতি পরিবর্তন না হলে রাজ্যের ভবিষ্যৎ অন্ধকার। তাঁর মতে বিজেপি সংযত চুপ আছে বলেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে নয়তো মানুষের রোষ সামলানো কঠিন হয়ে দাঁড়াত।


