ওয়াকফ আইন নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়াল। ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্কে প্রভাব ফেলতেই বিজেপি ইচ্ছাকৃতভাবে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে, এমনই অভিযোগ তুলে সরব হলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার বাঁকুড়ার বড়জোড়া সভা থেকে তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন, রাজ্যে কোনওভাবেই ওয়াকফ সম্পত্তি কাড়তে দেওয়া হবে না। কোনও ধর্মস্থানে হাত পড়তে দেওয়া হবে না বলেও তিনি আশ্বাস দেন। সম্প্রতি সংসদে সংশোধিত ওয়াকফ বিল পাস হয়েছে। সেই আইনে বলা হয়েছে, কোনও সম্পত্তিকে ওয়াকফ সম্পত্তি হিসেবে ঘোষণা করার চূড়ান্ত অধিকার শুধু ওয়াকফ বোর্ডের হাতে থাকবে না। জেলা শাসক বা সম পদমর্যাদার আধিকারিকও সেই সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন। এই বিলের বিরোধিতা করেছিল তৃণমূল কংগ্রেস। কিন্তু সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে বিল পাস হওয়ার পর দেশের বিভিন্ন জায়গায় প্রতিবাদ শুরু হয়। পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলাতেও পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিরোধী দল রাজ্য সরকারের দিকে আঙুল তোলে। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী ওয়াকফ আইনের বলি হিসেবে হিন্দু দাস পরিবারকে সামনে রেখে প্রচার চালান। সেই আবহেই বিজেপির বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগ তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। বাঁকুড়ার সভায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ওয়াকফ আইন কেন্দ্রীয় সরকার করেছে। রাজ্য সরকার শুধু টেকনিক্যাল কারণে কেন্দ্রীয় পোর্টালে ওয়াকফ সম্পত্তি নথিভুক্তকরণে সমর্থন জানিয়েছে। কিন্তু সেই বিষয়টিকেই ভুলভাবে তুলে ধরে বলা হচ্ছে, রাজ্য সরকার নাকি ওয়াকফ আইন কার্যকর করতে চাইছে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, এই নিয়ে সংবাদমাধ্যমে বিজ্ঞাপন দিয়ে রাজ্যের অবস্থান স্পষ্ট করা হয়েছে। সেখানে উল্লেখ রয়েছে, ওয়াকফ সম্পত্তি ওয়াকফের অধীনেই থাকবে এবং এই মর্মে বিধানসভায় প্রস্তাবও গৃহীত হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, তিনি ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করেন না। হিন্দুদের মন্দির, মুসলিমদের মসজিদ, খ্রিস্টানদের গির্জা, সব ধর্মস্থানই সুরক্ষিত থাকবে। আদিবাসী জমি বা ওয়াকফ সম্পত্তি দখলের কোনও প্রশ্নই ওঠে না। যতদিন তিনি আছেন, রাজ্যে ধর্মীয় সম্পত্তি রক্ষার দায়িত্ব রাজ্য সরকারই নেবে, এই বার্তাই দিলেন মুখ্যমন্ত্রী।


