উত্তরপ্রদেশের মথুরায় এক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে ঘিরে ওঠা বিতর্কে নতুন মোড়। নামাজ পড়তে বাধ্য করা এবং ধর্মীয় প্রভাব খাটানোর অভিযোগে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হলেও তদন্তে কোনও প্রমাণ না মেলায় সেই সিদ্ধান্ত শেষ পর্যন্ত তুলে নেওয়া হয়েছে।
জান মহম্মদ নামে ওই শিক্ষক দীর্ঘদিন ধরে স্কুলে কর্মরত। ২০০৭ সাল থেকে তিনি প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। সম্প্রতি স্থানীয় এক বিজেপি নেতা তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন যে, ছাত্রছাত্রীদের উপর ধর্মীয় শিক্ষা চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে এবং জাতীয় সঙ্গীত গাওয়া বন্ধ রাখা হয়েছে। অভিযোগ প্রকাশ্যে আসতেই তড়িঘড়ি প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাকে বরখাস্ত করা হয়। তবে শুরুতে কোনও প্রাথমিক তদন্ত করা হয়নি বলেই জানা গেছে।
পরে বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত অনুসন্ধান শুরু হয়। স্কুলের অন্যান্য শিক্ষক, পরিচালন সমিতির সদস্য এবং পড়ুয়াদের সঙ্গে কথা বলেন তদন্তকারীরা। স্কুলে মোট ২৩৫ জন ছাত্রছাত্রী রয়েছে, যার মধ্যে বেশিরভাগই হিন্দু সম্প্রদায়ের। শিক্ষকদের মধ্যেও জান মহম্মদই একমাত্র মুসলিম। সহকর্মী শিক্ষকরা স্পষ্ট জানান, জোর করে কোনও প্রার্থনা বা ধর্মীয় কার্যকলাপ হয়নি। প্রতিদিন নিয়ম মেনে জাতীয় সঙ্গীত গাওয়া হয় বলেও তারা জানান। স্কুলের সিসিটিভি ফুটেজও খতিয়ে দেখা হয়, সেখানেও অভিযোগের সমর্থনে কিছু পাওয়া যায়নি।
তদন্তের ভিত্তিতে প্রশাসন জানায়, অভিযোগের কোনও সত্যতা নেই। এরপরই তার বরখাস্তের নির্দেশ প্রত্যাহার করা হয়। ঘটনাকে ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে নানা মন্তব্য ছড়ায়। সমাজমাধ্যমে শিক্ষক ও মুসলিম সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে কটাক্ষ করা হয়। তবে শিক্ষা মহলের একাংশ মনে করছে, প্রমাণ ছাড়া এই ধরনের অভিযোগ তুলে কারও সম্মানহানি করা উচিত নয়।


