জমিয়াতে উলেমায়ে হিন্দের সভাপতি ও বিশিষ্ট আলেম মাওলানা আরশাদ মাদানির সাম্প্রতিক মন্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তাঁর বক্তব্যের বিরোধিতা করেছে বিজেপি নেতৃত্ব। আবার কংগ্রেস নেতারা সেই মন্তব্যের সঙ্গে সহমতও প্রকাশ করেছেন। এক অনুষ্ঠানে মাওলানা মাদানি বলেন, মুসলিমদের পিছিয়ে পড়া নিয়ে অনেকেই নানা কথা বলেন। কিন্তু তিনি মনে করেন, বিষয়টি এত সহজ নয়। তিনি উদাহরণ স্বরূপ বলেন, একজন মুসলিম নিউ ইয়র্ক শহরের মেয়র হতে পারেন, লন্ডন শহরের মেয়রও মুসলিম হতে পারেন, কিন্তু ভারতে কোনো মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ে মুসলিম উপাচার্য হওয়াই কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। মুসলিম কোনো ব্যক্তি তাঁকে নানান অভিযোগে জজ্জরিত করে জেলে পাঠানো হয়। বক্তৃতায় তিনি আজম খানের উদাহরণও তিনি তুলে ধরেন।
মাওলানা আরও বলেন, আল ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন ডাক্তারের বিরুদ্ধে বিস্ফোরণে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠতেই পুরো বিশ্ববিদ্যালয়কে টার্গেট করা হচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, সরকার হয়তো চাইছে না মুসলিমরা মাথা উঁচু করে দাঁড়াক। তাঁর মতে, দেশে ভালোবাসা ও ভ্রাতৃত্ব কমে যাচ্ছে, সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ বাড়ছে। তিনি দোয়া করেন, দেশের ১৩০০ বছরের সম্প্রীতির ইতিহাস যেন অটুট থাকে।
সভাবশিদ্ধ ভাবেই মাওলানার এই মন্তব্যের বিরোধিতা করে বিজেপি নেতা গিরিরাজ সিং এবং শাহনওয়াজ হোসেন বলেন, মওলানা সন্ত্রাসকে সমর্থন করছেন। শাহনওয়াজ হোসেন দাবি করেন, প্রধানমন্ত্রী “সবকা সাথ, সবকা বিকাশ” নীতি নিয়ে এগিয়ে চলেছেন, তাই মাওলানার মন্তব্য দায়িত্বজ্ঞানহীন। অন্যদিকে কংগ্রেস নেতা সন্দীপ দীক্ষিত বলেন, সরকার পরিকল্পিতভাবে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে এবং তাদের বুদ্ধিজীবীদের লক্ষ্য করছে। কংগ্রেস সাংসদ ইমরান মাসুদ মনে করেন, মাওলানা মাদানির মন্তব্য বাস্তবসম্মত এবং দুঃখজনকভাবে একটি বড় জনগোষ্ঠীকে দমিয়ে রাখার চেষ্টা চলছে।


