পরিবারের দাবি, SIR নিয়ে অতিরিক্ত দুশ্চিন্তার কারণেই হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেলেন ৪২ বছরের পরিযায়ী শ্রমিক শেরফুল শেখ। কর্মসূত্রে তিনি বেঙ্গালুরুতে থাকতেন এবং সেখানেই দিনমজুরির কাজ করতেন। পরিবার জানিয়েছে, কয়েক দিন ধরে ইউটিউবে এসআইআর সংক্রান্ত নানা ভিডিও দেখতেন শেরফুল। কী ভাবে ফর্ম পূরণ করতে হবে, কোন কাগজ দিতে হবে, এসব নিয়ে তাঁর মনে গভীর আতঙ্ক তৈরি হয়েছিল। যদিও ২০০২ সালের এসআইআর তালিকায় তাঁর নাম ছিল, তবুও শেরফুলের ভয় কাটছিল না। প্রায়ই তিনি স্থানীয় বুথ লেভেল অফিসারকে ফোন করে খোঁজ নিতেন। স্থানীয় BLO জানিয়েছেন, শেরফুল বারবার বলতেন, “আমাকে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেবে না তো?” বুধবার সকালে আচমকাই বুকে তীব্র ব্যথা অনুভব করেন শেরফুল। সহকর্মীরা দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে গেলেও চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। ডাক্তারদের প্রাথমিক অনুমান, হৃদ্রোগেই মৃত্যু হয়েছে। তাঁর মৃত্যুর খবর পৌঁছাতেই শোকে ভেঙে পড়েছে পরিবার।
গ্রামবাসীদের দাবি, এসআইআর নিয়ে অতি আতঙ্কই মৃত্যুর কারণ। কিছু দিন আগে নওদা থানার ছাতুমারা অঞ্চলে ইসরাইল মোল্লা নামে আরও এক পরিযায়ী শ্রমিক আতঙ্কে অসুস্থ হয়ে মারা গিয়েছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছিল। সে সময়ও পরিবার জানিয়েছিল, ২০০২ এর ভোটার তালিকায় নাম না থাকায় তিনি অত্যন্ত দুশ্চিন্তায় ছিলেন। এসআইআর ঘোষণা হওয়ার পর থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় এমন অভিযোগ সামনে আসছে। বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক তরজাও শুরু হয়েছে। বিজেপির অভিযোগ, রাজ্যের শাসকদল মানুষকে ভুল তথ্য দিয়ে ভয় দেখাচ্ছে। পাল্টা তৃণমূলের দাবি, কেউ নাগরিকত্ব হারাবে না, বরং বিজেপি ভুল প্রচার চালাচ্ছে।


