নভেম্বরের শুরুতেই রাজ্যজুড়ে আলোড়ন ফেলেছে দুধের দাম বৃদ্ধি। ধাপে ধাপে দাম বাড়ছিলই, কিন্তু এবার একলাফে লিটারপ্রতি ৪ টাকা বেড়ে যাওয়ায় রীতিমতো চাপে পড়েছেন সাধারণ গ্রাহক ও ছোট দোকানদাররা। ২০২০ সালে দুধের দাম ছিল ৩৯-৪৪ টাকা, সেই দাম ২০২১ সালে বেড়ে গিয়ে হয় ৪০-৪৫ টাকা। ২০২২ সালে ফের দাম বেড়ে হয় ৪৫-৪৮ টাকা। গত দুবছরে সেই দাম আসে ৫২-৫৭ টাকা। ‘সুপ্রিম’ নামক দুধ ব্র্যান্ডের দাম অক্টোবরে ছিল লিটারপ্রতি ৫৬ টাকা। নভেম্বরের গোড়ায় সেটি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬০ টাকা। ‘তৃপ্তি’ ব্র্যান্ডের দাম ৫২ থেকে বেড়ে হয়েছে ৫৪ টাকা, আর ‘স্বাস্থ্যসাথী ডবল টোন’ দুধের দাম ৪৬ থেকে বেড়ে হয়েছে ৪৮ টাকা। অর্থাৎ, দেড় বছরের মধ্যে ‘সুপ্রিম’ দুধের দাম লিটারে ১০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।
এই মূল্যবৃদ্ধিতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবার ও চা দোকানদাররা। তাদের দাবি একলাফে ৪ টাকা দাম বাড়ায় ব্যবসায় ক্ষতি হতে পারে। আবার অনেকেই বলছেন গত ৩৫ বছরে এমন হঠাৎ দাম বাড়েনি। বাংলার এক প্রথম সারির সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে প্রাণীসম্পদ মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ জানিয়েছেন, অতিবৃষ্টির কারণে গোখাদ্যের অভাব দেখা দিয়েছে, ফলে দুধ উৎপাদন কমেছে। তাই উৎপাদকদের স্বার্থে ও সংস্থার ভারসাম্য রক্ষায় দুধের বিক্রয়মূল্য সামান্য বাড়াতে হয়েছে। তার দাবি, অন্যান্য সংস্থার তুলনায় বাংলার ডেয়ারির দুধ এখনো লিটারপ্রতি ৪-৬ টাকা সস্তা। এর মাঝে বাংলার ডেয়ারির শেয়ার বিক্রিতে অনিয়মের অভিযোগ তুলে সরব হয়েছিলেন প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি তথা বহরমপুরের প্রাক্তন সাংসদ অধীর চৌধুরী। ২০২০ সালে মাদার ডেয়ারির নাম বদলে বাংলার ডেয়ারি করা হয়। উৎপাদন বাড়াতে নতুন ইউনিট তৈরি হলেও দুধের দামবৃদ্ধি রোখা যাচ্ছে না। গত কয়েক বছরে দুধের দাম বাড়ার ফলে সাধারন মানুষের দৈনন্দিন জীবনে আর্থিক চাপ সৃষ্টি হয়েছে।


