যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে দুই ছাত্রীকে হিজাব পরার কারণে পরীক্ষায় বসতে না দেওয়ার অভিযোগ ঘিরে এখনও ধোঁয়াশা কাটেনি। ঘটনার এতদিন পরেও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের তরফে কোনও স্পষ্ট রিপোর্ট না পাওয়ায় এবার সরাসরি চিঠি পাঠাল পশ্চিমবঙ্গ সংখ্যালঘু কমিশন।
সংখ্যালঘু কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনার বিস্তারিত জানতে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত ব্যাখ্যা চেয়েছে। পাশাপাশি অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য একটি ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটিও গঠন করা হয়েছে। কমিশনের সদস্যরা ইতিমধ্যেই যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে উপাচার্য, উপাচার্য মণ্ডলী ও সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।
এই ঘটনায় অভিযোগ, ইংরেজি বিভাগের এক অধ্যাপিকার সিদ্ধান্তে দুই মুসলিম ছাত্রীকে হিজাব পরার কারণে পরীক্ষায় বসতে দেওয়া হয়নি। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর থেকেই বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে এবং ছাত্রমহলে ক্ষোভ তৈরি হয়। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন—পোশাকের কারণে কীভাবে পরীক্ষার অধিকার আটকে দেওয়া যায়?
অভিযোগকারী ছাত্রীদের দাবি, পরীক্ষার দিন হঠাৎ করেই তাঁদের জানানো হয়, হিজাব খুলে না রাখলে পরীক্ষায় বসতে দেওয়া হবে না। পরিস্থিতি এতটাই অস্বস্তিকর হয়ে ওঠে যে শেষ পর্যন্ত তাঁরা পরীক্ষা দিতে পারেননি। পরে বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও কোনও সন্তোষজনক উত্তর মেলেনি।
সংখ্যালঘু কমিশনের বক্তব্য, বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল। ধর্মীয় পরিচয়ের সঙ্গে যুক্ত পোশাক নিয়ে কাউকে পরীক্ষার বাইরে রাখা যায় কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। কমিশন জানিয়েছে, ৩০ দিনের মধ্যে ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটিকে রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে।
এই রিপোর্টের ভিত্তিতেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে কমিশন। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নীরবতা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। এত বড় অভিযোগের পরেও কেন স্পষ্ট অবস্থান জানানো হচ্ছে না, তা নিয়েও অসন্তোষ বাড়ছে।
এখন দেখার, কমিশনের রিপোর্টে কী উঠে আসে এবং বিশ্ববিদ্যালয় এই বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেয়।


