মানুষের পরিচয় আগে মানুষ—এই বার্তাকে সামনে রেখে বাংলাদেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের যুবক দিপু দাসের হত্যার বিচার চেয়ে কলকাতার রাজারহাট নিউটাউনে এক শান্তিপূর্ণ মোমবাতি মিছিল অনুষ্ঠিত হল। রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন মাইনরিটি রিলিফ সোসাইটির উদ্যোগে রবিবার সন্ধ্যায় আয়োজিত এই কর্মসূচিতে হাজার হাজার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
হাতে জ্বলন্ত মোমবাতি নিয়ে অংশগ্রহণকারীরা কোনও বিদ্বেষ নয়, বরং ন্যায়বিচার, শান্তি ও মানবিক মূল্যবোধের পক্ষে তাঁদের অবস্থান স্পষ্ট করেন। মিছিলের নেতৃত্ব দেন সংগঠনের চেয়ারম্যান ডা. কবির আহমেদ এবং সভাপতি হাজী সাহাজান আলী (লাল্টু হাজী)।
মিছিলে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সম্পাদক ও পশ্চিমবঙ্গ ইমাম মোয়াজ্জিন সমিতির রাজ্য সম্পাদক হাফেজ আজিজ উদ্দিন, ইমাম উলামা পরিষদের সভাপতি মাওলানা শোহরাব উদ্দিন, এসো কোরআনী পরিবারের ডাইরেক্টর হাফেজ মাওলানা আফাজ উদ্দিন-সহ বহু সমাজসেবী ও ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব।
সমাবেশে বক্তারা স্পষ্ট ভাষায় বলেন, সংখ্যালঘু হোক বা সংখ্যাগুরু—প্রতিটি মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সমাজ ও রাষ্ট্রের যৌথ দায়িত্ব। প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশে যদি কোনও নিরীহ মানুষের উপর অন্যায় হয়, তবে তা মানবতার প্রশ্ন হয়ে দাঁড়ায়। তাঁরা বলেন, ইসলাম সহ সমস্ত ধর্মই অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে শেখায় এবং নিরপরাধ মানুষের রক্তপাত কোনও ধর্মই সমর্থন করে না।
মাইনরিটি রিলিফ সোসাইটির পক্ষ থেকে ভারতের বিদেশমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানানো হয়েছে, যাতে কূটনৈতিক স্তরে বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে উত্থাপন করা হয় এবং দিপু দাস হত্যাকাণ্ডে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
এই মিছিল কোনও বিদ্বেষ ছড়ানোর জন্য নয়, বরং গ্রামবাংলার মানুষকে এই বার্তাই দিতে চায় যে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদই সভ্যতার পথ। ধর্ম আলাদা হতে পারে, কিন্তু দুঃখ, ব্যথা আর ন্যায়বিচারের দাবি সবার এক।


