কংগ্রেসের নেতৃত্বকে নিশানা করে কার্যত বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন সিপিআইএম-এর রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। তাঁর অভিযোগ, কংগ্রেস শুরু থেকেই দ্বিচারিতা, সিদ্ধান্তহীনতা ও অনিশ্চয়তার রাজনীতি করছে। তার পাশাপাশি কংগ্রেসের যে আঞ্চলিক নেতৃত্ব ও কর্মী-সমর্থকেরা তৃণমূলের শত প্রলোভন ও অপচেষ্টা উপেক্ষা করে এখনও তৃণমূলের অপশাসনের বিরোধিতায় অনড় রয়েছেন, তাঁদের সেলাম জানালেন। তিনি ঘোষণা করেন যে আগামী দিনে সিপিআইএম-এর জেলা ও আঞ্চলিক নেতৃত্ব সেসব কংগ্রেস কর্মী-সমর্থকদের কাছে পৌঁছবেন।তিনি জানান, গত বছরের মাঝামাঝি থেকেই বামফ্রন্ট নিজেদের শরিক দলগুলির মধ্যে একের পর এক বৈঠক করে চার দফা আলোচনা সম্পূর্ণ করেছে। এখন তারা চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দোরগোড়ায়। একই সঙ্গে বামফ্রন্টের বাইরে থাকা দলগুলির সঙ্গেও রাজনৈতিক বোঝাপড়া স্পষ্ট হয়েছে। সিপিআই(এম) লিবারেশন থেকে আইএসএফ—সবাই একক সুরে জানিয়ে দিয়েছে, তৃণমূল ও বিজেপির বিরুদ্ধে ইস্যুভিত্তিক লড়াইয়ে তারা বামফ্রন্টের পাশে থাকবে। এর মধ্যে তৃণমূল কংগ্রেসের বিরোধিতা অথবা সঙ্গ – এই নিয়ে কংগ্রেস নেতৃত্বের ডিগবাজি নিয়ে যথেষ্ট বিরক্তি প্রকাশ পেল মহম্মদ সেলিমের কণ্ঠে।তাঁর বক্তব্য, উপনির্বাচনের সময়েই কংগ্রেসের এরূপ ভূমিকা স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল। একের পর এক ছোট দল জোটে আসার আগ্রহ জানিয়ে বামফ্রন্টের চেয়ারম্যানকে চিঠি দিলেও, কংগ্রেস কোনও স্পষ্ট অবস্থান নিতে পারেনি—বরং নীরবতাকেই ঢাল করেছে।মহম্মদ সেলিম জানান, গত বছরের ফেব্রুয়ারি থেকেই বামফ্রন্ট নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করেছিল। এমনকি ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত কংগ্রেসকে সময় দেওয়া হয়েছিল—জোট হবে কি না, তা স্পষ্ট করার জন্য। কিন্তু সেই সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ার পরও কংগ্রেসের তরফে কোনও রাজনৈতিক দিশা মেলেনি। বরং এখন পরিষ্কার, তাদের প্রধান আগ্রহ তৃণমূলের সঙ্গে আসন সমঝোতায়। এই বাস্তবতাই, সেলিমের কথায়, কংগ্রেসের তথাকথিত তৃণমূল বিরোধী চরিত্রকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।২০১৬ ও ২০২১ সালে বিধানসভা নির্বাচনে যৌথ লড়াইয়ের প্রসঙ্গ টেনে মহম্মদ সেলিম স্পষ্ট করে দেন—তখন পরিস্থিতির চাপে সমঝোতা হলেও আজ আর সেই ধোঁয়াশা চলবে না। আজ প্রশ্ন একটাই—রাজনীতি কোন দিকে? তৃণমূল-বিজেপি বিরোধী সংগ্রাম নাকি ক্ষমতার অঙ্কে সুবিধাজনক দরকষাকষি?তাঁর মতে বামফ্রন্টের অবস্থান একেবারে স্পষ্ট – যে কোনও জোটের ভিত্তি হতে হবে তৃণমূল ও বিজেপি বিরোধিতা, সাম্প্রদায়িকতা ও সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী লড়াই এবং খেটে খাওয়া মানুষের স্বার্থরক্ষা। এই রাজনৈতিক ঘোষণাপত্রে সই না করলে কোনও আপস, কোনও সমঝোতা সম্ভব নয়—এ কথা দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন মহম্মদ সেলিম।রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই আক্রমণ শুধুই কংগ্রেসের উদ্দেশে বার্তা নয়—এটি রাজ্যের বিরোধী রাজনীতির দিকনির্দেশও। শেষ মুহূর্তে যেনতেন প্রকারে জোট নয়, সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক অবস্থানের ভিত্তিতে বিজেপি ও তৃণমূলের বিরুদ্ধে সংগ্রাম—এই লাইনে দাঁড়িয়েই লড়াইয়ে নামতে চায় বামফ্রন্ট। আর সেই লড়াইয়ে কারা সঙ্গে থাকবে, আর কারা তৃণমূলের ছায়ায় দাঁড়াবে—সেই বিভাজনরেখা টেনে দিলেন মহম্মদ সেলিম নিজেই।
Popular Categories


