বীরভূমের মুরারইয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী ঘোষণা ঘিরে দলের একাংশের মধ্যে অসন্তোষ ক্রমশ প্রকাশ্যে আসছে। শুক্রবার মুরারই দলীয় কার্যালয়ে বৈঠক চলাকালীন সাংসদ শতাব্দী রায়-এর উপস্থিতিতেই বিশৃঙ্খলা তৈরি হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠতেই সভা শেষ না করেই কার্যালয় ত্যাগ করেন সাংসদ।
স্থানীয় সূত্রের খবর, মুরারই বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূলের প্রার্থী নির্বাচন নিয়ে গত কয়েক দিন ধরেই দলের কর্মীদের একাংশ ক্ষোভ প্রকাশ করছিলেন। বিদায়ী বিধায়ক তথা চিকিৎসক মোশারফ হোসেনকে পুনরায় প্রার্থী করা নিয়ে দলের একটি বড় অংশের আপত্তি ছিল বলে জানা গিয়েছে।
দলীয় সূত্রে খবর, স্থানীয় নেতৃত্বের একাংশ চেয়েছিলেন প্রাক্তন বিধায়ক প্রয়াত আব্দুর রহমানের ছেলে সঞ্জিবুর রহমান ওরফে বাপ্পাকে প্রার্থী করা হোক। অন্যদিকে, পাথর ব্যবসায়ী আলি খানও প্রার্থী হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে ছিলেন বলে জানা যায়।
শেষপর্যন্ত তৃণমূল নেতৃত্ব মোশারফ হোসেনের নামই প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করে। তবে ঘোষণার পরেও দলের একাংশ এখনও সক্রিয়ভাবে নির্বাচনী প্রচারে নামেননি বলে অভিযোগ উঠেছে। সেই ক্ষোভ ও অভিমান মেটাতেই শুক্রবার মুরারই দলীয় কার্যালয়ে বৈঠকে যোগ দেন বীরভূমের সাংসদ শতাব্দী রায়।
বৈঠক চলাকালীন আলি ডুরিয়া অঞ্চলের তিন পঞ্চায়েত সদস্যার স্বামীদের দল থেকে বহিষ্কারের দাবি ওঠে বলে জানা গিয়েছে। এই বিষয়কে কেন্দ্র করে ব্লক সভাপতি বিনয় ঘোষের সঙ্গে তর্কাতর্কি শুরু হয়, যা পরে বড় আকার নেয় বলে উপস্থিত কর্মীদের একাংশের দাবি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে বুঝে সভা ছেড়ে বেরিয়ে যান সাংসদ।
সাংসদ বেরিয়ে যাওয়ার পরেও কিছুক্ষণ দলীয় কার্যালয়ে বচসা চলতে থাকে বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি। যদিও এ বিষয়ে জেলা তৃণমূল নেতৃত্বের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।



