মুর্শিদাবাদের পরিযায়ী শ্রমিকদের ভিন রাজ্যে হেনস্থার ঘটনা থামছে না। বাংলায় কথা বললেই বাংলাদেশি বলে অপমান, এ যেন নিত্যদিনের অভিজ্ঞতা হয়ে উঠেছে অনেক পরিযায়ী শ্রমিকের কাছে। এবার ওড়িশায় একই অভিযোগ উঠল। ওড়িশার পুলিশ মুর্শিদাবাদের ১৭ জন শ্রমিককে বাংলাদেশি সন্দেহে আটকে রাখে বলে জানা গেছে। এই ঘটনাটি ঘটে ১৮ নভেম্বর রাতে। ওই শ্রমিকরা লালগোলা ও রঘুনাথগঞ্জের বড়জুমলা এলাকার বাসিন্দা বলে জানা যায়। অভিযোগ, কোনও পরিচয়পত্র যাচাই না করেই তাদের বিভিন্ন থানায় নিয়ে আটকে রাখা হয়। শ্রমিকদের ঠিকাদার তাদেরকে দেখতে গেলে তাকেও আটক করে হেনস্থা করা হয়।
পশ্চিমবঙ্গ পরিযায়ী শ্রমিক ঐক্য মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক আসিফ ফারুক জানান, প্রথমে শ্রমিকদের কেন্দ্রাপাড়া থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তাদের আলাদা করে কেন্দ্রাপাড়া টাউন, কেন্দ্রাপাড়া সদর, রাজনগরসহ আরও কয়েকটি থানায় ভাগ করে রাখা হয়। কেন্দ্রাপাড়া থানার অধীনে থাকা ১২ জন শ্রমিককে একটি সরকারি পলিটেকনিক কলেজের ক্যাম্পাসে রাখা হয়েছিল। এমনকি তাদের মোবাইল পর্যন্ত নিয়ে নেওয়া হয়।
শ্রমিকদের অভিযোগ, কোনও সঠিক কারণ ছাড়াই তাদের আটক রাখা হয় এবং তথ্য যাচাইয়ের নামে কুঁড়ে ঘরে রাখা হয়। এমনকি খাবারেরও সঠিক ব্যবস্থা ছিল না বলে জানায় তারা। শামসেরগঞ্জ ও ভগবানগোলা এলাকার শ্রমিকরাও সাম্প্রতিক সময়ে একই ধরনের হেনস্থার শিকার হয়েছেন। জেলা পুলিশের হস্তক্ষেপে এদের মধ্যে কয়েকজনকে ছাড়া পাওয়া গেছে। ওড়িশায় আটকে থাকা এক শ্রমিক সইফুদ্দিন মোমিনের ভাই নাসিম আনসারি বলেন, মুর্শিদাবাদের বহু মানুষ ২০-৩০ বছর ধরে ওড়িশায় কাজ করছেন। আগে এমন ঘটনা আগে কখনও ঘটেনি। এবার বাংলাদেশি সন্দেহে তাদের আটক করা হচ্ছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
পরিযায়ী শ্রমিক সংগঠনগুলির দাবি, এই ধরনের হেনস্থা রাজনৈতিক কারণে বাড়ছে। ওয়েস্ট বেঙ্গল মাইগ্র্যান্ট ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের জেলা সম্পাদক কামাল হোসেন অভিযোগ করেন, কেন্দ্রের বিজেপি এবং রাজ্যের তৃণমূল সরকারের মধ্যে গোপন সমঝোতার ফলেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। আগে এনআরসি নিয়ে রাজনীতি হয়েছে, এখন এসআইআরকে কেন্দ্র করে আবার একই ধরনের আতঙ্ক ছড়ানো হচ্ছে। উল্লেখ্য, গত বছরও ওড়িশায় কয়েক হাজার পরিযায়ী শ্রমিক আক্রমণের শিকার হয়েছিলেন।


