
শুক্রবার মুর্শিদাবাদ জেলার সাজুর মোড়ে ওয়াকফ (সংশোধনী) আইন বিরোধী বিক্ষোভের সময় পুলিশের গুলিতে ২১ বছরের যুবক ইজাজ মোমিন নিহত হন। শনিবার সন্ধ্যায় মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজে তাঁর মৃত্যু হয় । এছাড়া গোলাম মুইনুদ্দিন শেখ, হাসান শেখ ও এক অজ্ঞাতপরিচয় যুবক গুলিবিদ্ধ হয়ে জঙ্গীপুর হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন । শুক্রবার থেকে চলা সংঘর্ষে ১৫ পুলিশসহ একাধিক বিক্ষোভকারী আহত হয়েছেন। এখন পর্যন্ত ১১৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ।
সংসদে ওয়াকফ (সংশোধনী) বিল পাশের প্রতিবাদে শুক্রবার থেকে মুর্শিদাবাদের সূতি, সামশেরগঞ্জ ও ধুলিয়ান এলাকায় বিক্ষোভ শুরু হয়। বিক্ষোভকারীরা রাস্তা অবরোধ, পুলিশি যানবাহনে অগ্নিসংযোগ ও সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর করে । মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শান্তির আবেদন জানিয়ে বলেন, “এই আইন বাংলায় প্রযোজ্য হবে না” । কলকাতা হাইকোর্ট শনিবার জেলায় সেন্ট্রাল ফোর্স মোতায়েনের নির্দেশ দেয়, যা বৃহস্পতিবার পর্যন্ত বলবৎ থাকবে ।
শনিবার সামশেরগঞ্জের জাফরাবাদে হরগোবিন্দ দাস (৭২) ও তাঁর পুত্র চন্দন দাসকে (৪০) বাড়িতে ঢুকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। পুলিশ এটিকে বিক্ষোভের সাথে যুক্ত করলেও স্থানীয়রা দাবি করেছে, এটি সম্পত্তি বিবাদজনিত ঘটনা । হরগোবিন্দের আত্মীয় প্রসেনজিৎ দাস বলেন, “ভিড়ে বাড়ি ঢুকে তাদের টেনে বের করে কুপিয়ে হত্যা করে। পুলিশ দেরিতে এসেছে” ।

পুলিশের ডিজিপি রাজীব কুমার দাবি করেন, “ন্যূনতম বল প্রয়োগ করা হয়েছে। গুজব রটনা ও উস্কানিদাতাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে” । তবে বিরোধী দল বিজেপি অভিযোগ করেছে, “তৃণমূল সরকার সংখ্যালঘু তোষণ নীতি অনুসরণ করায় সহিংসতা ছড়িয়েছে” । অন্যদিকে, টিএমসি নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “বিকাশের রাজনীতিতে হেরে গিয়ে কিছু গোষ্ঠী ধর্মের নামে বিভাজন সৃষ্টি করতে চাইছে” ।

জেলার সংবেদনশীল এলাকাগুলোতে ১৪৪ ধারা জারি ও ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখা হয়েছে । টিএমসি বিধায়ক মনিরুল ইসলাম ও সাংসদ খলিলুর রহমানের বাড়িতে ভাঙচুর চালানো হয় । বিক্ষোভকারীরা রেল ট্র্যাক অবরোধ করে যার ফলে ট্রেন চলাচল ব্যাহত করে ।
রবিবার সকাল নাগাদ জেলায় শান্তিপূর্ণ অবস্থা বিরাজ করছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। তবে সেন্ট্রাল ফোর্সের তত্ত্বাবধানে কঠোর নজরদারি চলছে । আইনি লড়াই ও রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেই সাধারণ মানুষ প্রত্যাশা করছে, শীঘ্রই স্বাভাবিকতা ফিরবে।


